কিংবদন্তি নির্মাতা আমজাদ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ১৪, ২০২০

কিংবদন্তি নির্মাতা, জনপ্রিয় চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৮ সালের আজকের এই দিনে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ওই বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি ব্র্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রথমে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা নেওয়া অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

আমজাদ হোসেন ছিলেন একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার, অভিনয়শিল্পী ও লেখক। তার জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুর জেলায়। রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু অভিনয় দিয়ে। হারানো দিন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৬১ সালে তিনি এ জগতে পা রাখেন। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘খেলা’। জহির রায়হানের সঙ্গে লিখেন সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’র চিত্রনাট্য।

১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এই গুণী নির্মাতা। এ ছাড়া তিনি আরও ১৪ বার জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা।

তার জনপ্রিয় সিনেমার মধ্যে রয়েছে- বাল্যবন্ধু, পিতাপুত্র, এই নিয়ে পৃথিবী, বাংলার মুখ, নয়নমণি, সুন্দরী, কসাই, জন্ম থেকে জ্বলছি, দুই পয়সার আলতা, গোলাপী এখন ঢাকায়, গোলাপী এখন বিলেতে ইত্যাদি।

তার উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ধ্রুপদী এখন ট্রেনে, আমি এবং কয়েকটি পোস্টার, রক্তের ডালপালা, বেলায় অসময় ইত্যাদি। জীবনীগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মওলানা ভাসানীর জীবন ও রাজনীতি, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জীবন ও রাজনীতি, মানবেন্দ্রনাথ রায়ের জীবন ও রাজনীতি। ইতিহাসগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস (প্রথম ও দ্বিতীয় খ), নকশালবাড়ী কৃষক আন্দোলন, বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস প্রভৃতি।