বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ধ্বংসের অপচেষ্টা রুখে দেয়ার আহ্বান ১৫ বিশিষ্টজনের

প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ৮, ২০২০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ধ্বংসের অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১৫ বিশিষ্টজন। সরকার ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানব সভ্যতাবিরোধী এই ধর্মান্ধ-জঙ্গি গোষ্ঠীকে প্রতিহত করি। এদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে। ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ ধর্ষিত নারীর বাংলাদেশে জনগণ আমাদের পাশে আছে। গতকাল সোমবার (০৭ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তাঁরা এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিদাতারা হলেন- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, শামসুজ্জামান খান, হাসান আজিজুল হক, অনুপম সেন, সারোয়ার আলী, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, আবদুস সেলিম, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, শফি আহমেদ, আবুল মোমেন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সারা যাকের ও শিমুল ইউসুফ।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, দেশের কতিপয় ধর্মীয় মৌলবাদের প্রবক্তা ও ৭১ এর পরাজিত ঘাতক-দালাল সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠী জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙা ও ধ্বংস করার যে ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সংবিধানবিরোধী। এই মানবতার শত্রু ও দেশদ্রোহীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বিশিষ্টজনরা বলেন, এই ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনের ভুল ব্যখা ও ভাস্কর্যবিরোধী ফতোয়া দিয়ে দেশের নান্দনিক ভাস্কর্য স্বমূলে উৎপাটনের ঘোষণা দিয়েছে। ভাস্কর্য মানব সভ্যতার আদিতম শিল্প মাধ্যমের একটি। প্রাক-ঐতিহাসিক যুগে গুহামানবরাও গুহার দেয়ালে চিত্রাঙ্কন করে ও ম্যুরাল তৈরি করে মানুষের সৌন্দর্যবোধ ও নান্দনিকতার যে স্ফূরণ ঘটিয়েছিলেন, তারই পথ ধরে মানব সভ্যতা বিজ্ঞান, শিল্প, মানব-সম্পর্ক শৈলীর উত্তরোত্তর বিকাশ ঘটিয়ে সভ্যতার সোপান তৈরি করেছে।

তারা আরো বলেন, ভাস্কর্য কালের ও মানব সভ্যতার শিল্পমণ্ডিত সাক্ষ্য। মানব ইতিহাস এই ভাস্কর্যের মধ্যদিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিধৃত করে মানুষের পরম্পরা তৈরি করে। মানুষের সম্পর্ক শৈলীর অদৃশ্য সূত্র তৈরি করে। যার ফলে মানুষের ইতিহাস জীবন্ত হয়ে থাকে প্রতিটি জনপদে। বিজ্ঞান ও শিল্পের এ অনিবার্য ভূমিকাকে প্রত্যাখান করে এ মৌলবাদী অপশক্তি বাংলাদেশকে একটি পশ্চাৎপদ জনপদে পরিণত করতে চায়।

বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা তাদের এ হীন প্রচেষ্টা যে কোনো মূল্যে রুখে দেবো। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশ বছর পূর্তির সন্ধিক্ষণে ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা কুষ্টিয়ায় জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য মহাঅপরাধ। এ ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। তাই এ জঘন্য কাজে জড়িত অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তি দাবি করছি।