রোহিঙ্গা স্থানান্তর সমাধান নয়

ফেরত পাঠানোই হবে স্থায়ী সমাধান

প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ৬, ২০২০

এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে স্থানান্তর করার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন এ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় বিদেশি সংস্থাগুলোর আপত্তি আমলে না নিয়ে সঠিক কাজটি করেছে সরকার। তবে এই স্থানান্তরের বিষয়টি স্থায়ী কোনও সমাধান নয়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই একমাত্র সমাধান বলে মনে করেন তারা। এজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো করার পরামর্শ তাদের।

সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে অবকাঠামোসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের অংশ হিসেবে শুক্রবার প্রথম দফায় এক হাজার ছয়শ ৪২ জন রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেগে ওঠা দ্বীপ ভাসানচরে নেয়া হয়।

ধীরে ধীরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেয়া হবে। এর ফলে টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওপর চাপ কমবে। আবার রোহিঙ্গাদের অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে। এ প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশ্লেষক আসিফ মুনির বলেন, যেহেতু শুরু হয়েছে এখন তা সময় ব্যাপার। এটি করতে গিয়ে অভিজ্ঞতা কেমন হচ্ছে এবং রোহিঙ্গাদের দিক থেকে দৃষ্টি ভঙ্গি কেমন হচ্ছে তা দেখার বিষয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এক লাখ রোহিঙ্গা ওখানে সরানো হলো এরপর এখানে এক লাখ লোক কমলো। সেটি হয়তো যথেষ্ট নয়, তবে কিছু চাপ তো কমবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাদের দিকটি দেখে। আগে একটি জায়গাতে ছিল, এখন দুটি জায়গা হওয়াতে তাদের কার্যক্রম সমস্যা হতে পারে। এ কারণ ছাড়া অন্য কোনও অভিযোগ আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় না।
তিনি আরও বলেন, সমস্যা কবে সমাধান হবে তা কেউ বলতে পারবে না। মিয়ানমার এদের ফেরত নিবে নিজের ইচ্ছায় আমি তা মনে করি না। সামনে আমাদের আর কঠিন পরীক্ষা আসছে।

এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করেন তারা। এ প্রক্রিয়াটি স্থায়ী সমাধান নয়। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পাঠানোই একমাত্র সমাধান বলে মনে করেন তারা। এজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো করার পরামর্শ তাদের। রোহিঙ্গা সংকট যেন দীর্ঘস্থায়ী রূপ না নেয় সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তারা। ## আরটিভি