‘বিনা’ ধানের আবাদে জমি হয়ে উঠছে চার ফসলী

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ১৬, ২০২০

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিনা জাতের ধানের আবাদে জমিকে চার ফসলী করে তুলেছেন ময়মনসিংহের কৃষকরা। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

ময়মনসিংহ সদরের ঘাগড়া ভাটিপাড়া গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী চলতি আমন ধান আবাদ করেছেন ১৫৬ শতক জমিতে। এরমধ্যে ৫২ শতক জমিতে আবাদ করেছেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট  উদ্ভাবিত বিনা-১১ ও ৭ আগাম জাতের ধান। আইয়ুব আলী জানান, বিনা জাত আবাদ করে তিনি একই জমি থেকে ৪টি ফসল তুলতে পারছেন।

ময়মনসিংহ সদরের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, চৌত্র মাসে সরিষা বিক্রি করে আমরা লাভবান। এরপর নাইলা শাক বোনা হয়। এই শাক তোলার পর বোরো আবাদ করি। তাতে এই জমিতে চারটি ফসল দিয়ে লাভবান আছি।

স্থানীয় অনেক কৃষকই এখন বিনা ধান আবাদ করে তাদের জমিকে চার ফসলী করেছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগাম জাত পেয়ে এই জমিতে তিন থেকে চারটি ফসল করা যাচ্ছে। তাদের ট্রেনিং, সার, সহযোগিতা, বিজ সবই আমরা সঠিকভাবে পাচ্ছি।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, জমিকে চার ফসলী করতে কৃষকদের  প্রযুক্তি সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীমা আক্তার বলেন, একটি আউশ জাতের ধান বিনা ধান-১৯ মাত্র ১শ’ দিনে ফসল ঘরে তোলা যায়। তিন ফসলী জমিকে চার ফসলী, দুই ফসলী জমিকে তিন ফসলীতে উন্নীত করছি।

২০৩০ সালকে সামনে রেখে দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন করতে বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের যে উন্নয়ন অভিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা আছে সেখানে বলা আছে, ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করতে হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার অর্থ হলো কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা এবং সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ লাখ ৬৬ হাজার হেক্টর জমিকে ধান চাষের আওতায় আনা। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমন ধানের আবাদ হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে।