নতুন জাতের পরীক্ষামূলক ধান চাষে সাফল্য

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ , জুন ২, ২০২০

রংপুরের বদরগঞ্জে পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন জাতের উদ্ভাবিত ব্রি হাইব্রিড ধান ৫ চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন চাষি মশিউর রহমান। উপজেলা রামনাথপুর ইউনিয়নের ঘাটাবিল এলাকার ওই চাষি এবারে পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীতে ৩৩ শতাংশ জমিতে নতুন জাতের ধানের চারা রোপণ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) তত্ত্বাবধানের প্রতি হেক্টরে আট মেট্রিকটন ধান উৎপাদন সম্ভব হবে। যা অন্যান্য প্রচলিত জাতের ধান চাষের তুলনায় বেশি।

সরেজমিন দেখা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে রামনাথপুর ইউনিয়নের ঘাটাবিল গ্রাম। দিগন্তজোড়া বোরো ধানের মাঠে ৩৩ শতাংশ জমিতে এবার পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীতে চাষ করা হয় ব্রি হাইব্রিড ৫ জাতের ধান। ওই এলাকার চাষি মশিউর রহমান স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ধান চাষ করেন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) পরীক্ষামূলক ওই ধানক্ষেত পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবায়দুর রহমান উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাতু রুমানা খাতুন ও সেকেন্দার আলী। তাদের উপস্থিতিতে ধান কাটা-মাড়াই করা হয়।

স্থানীয় কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী দিয়ে ব্রি উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধান ৫ এর নতুন চাষ করা হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পরামর্শে ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে ২ কেজি ব্রি ধান বীজ গাজীপুর থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল ওই কৃষককে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাতু রুমানা খাতুন বলেন, ব্রি হাইব্রিড ৫ ধানের গাছ বাতাসে সহজে ঢলে পড়ে না। আবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। পোকা মাকড় দমনের মাত্রা অন্য জাতের ধানের চেয়ে বেশি। ভাত কিছুটা মোটা হলেও স্বাদ যুক্ত। পরিবেশবান্ধব এ ধান চাষ করলে লাভের সম্ভবনা রয়েছে।
কৃষক মশিউর রহমান বলেন, এ ধান চাষ করে অন্য ধানের থেকে বাম্পার ফলন পেয়েছি। আগামী মৌসুমে ব্রি হাইব্রিড ৫ ধানের বাজারজাত করা হলে ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করা যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, ব্রি হাইব্রিড ৫ ধানের কাণ্ড শক্ত। পাতা সবুজ খাড়া থাকে। এতে পোকা মাকড়ের ঝুঁকি কম। বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসি থেকে এ ধানের বীজ সরবরাহ করা হলে ব্যাপকভাবে চাষাবাদ সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লায়লা ফেরদৌসী লিপি বলেন, আমাদের পরামর্শে ও উদ্যোগে নতুন জাতের এ ধান চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে অন্যান্য প্রচলিত জাতের চেয়ে ব্রি হাইব্রিড ৫ ধানের ফলন বেশি হয়। আগামীতে চাষিদের উদ্ধুদ্ধ করা হলে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।