সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

প্রকাশিত: ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ , অক্টোবর ২৭, ২০২০

নৌবাহিনীর কর্মকর্তার মোটরসাইকেল হাজী সেলিম এমপির ছেলে এরফান সেলিমের গাড়ি ধাক্কা দেয়া এবং বাহিনীর ওই কর্মকর্তাকে হুমকি-ধমকির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় বইছে। গতকাল এই ঘটনা ছিল কার্যত টক অব দ্য কান্ট্রি। এ ঘটনায় মামলা, অভিযুুক্তকে গ্রেফতার এবং হাজী সেলিমের বাসায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, অস্ত্রসহ একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, হাতকড়া, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে। হাজী সেলিমের ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গাড়িচালককে এক দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রোববার রাতে ধানমন্ডিতে কলাবাগান ক্রসিংয়ের কাছে এ ঘটনার সময় সেলিম পুত্রের গাড়িতে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো ছিল। নৌ বাহিনীর ওই কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের সঙ্গে সেলিমপুত্রের তর্কাতর্কির দৃশ্য ইউটিউব ও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান মন্তব্য-বক্তব্য এসেছে। ব্লগ, ফেসবুক, টুইটার, পাঠকের মতামতে প্রতিবাদ-বিতর্কের ঝড় বইছে। কেউ লিখেছেন ‘শেয়ানে শেয়ানে লড়াই’। আমির নামের একজন লিখেছেন, ‘নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি- বাবার বলে বলিয়ান না হয়ে নিজের বিবেকের বলে পথ চলো দেখবা শান্তি আর শান্তি!’ হাবিবুর রহমান লিখেছেন ‘পেশাদারিত্ব ছেড়ে দলের লেজুড়বৃত্তি করলে যেকোন বাহিনীর কপালে এরকম দুর্ঘটনা আছে….’। আব্দুস ছালাম লিখেছেন ‘দেশবাসী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, আমিও কৌত‚হলী এর উপযুক্ত বিচার নিয়ে। আমরা দৃষ্টান্তম‚লক বিচার আশা করছি’। মোতাহার লিখেছেন, ‘আওয়ামী জাহেলিয়াতে এটাই তো হবে’। খোকন লিখেছেন ‘দাঁত ভেঙেছে ও তো সামান্য? ওরা তো এই দেশের বীর পুরুষ। বাপের পর ছেলে, তারপর মেয়ে, নাতি ওরা তো শক্তি? দেশ চলে ওদের জোরে, তাই মারাটা তেমন আচর্য হওয়ার কিছুই নেই? আজ জেলে, কাল সকালে নেতাদের সাথেই নাস্তার টেবিলে, সাবাস বাঙালি!!’ আরেকজন লিখেছেন, ‘পাপের ভার পূর্ণ হলে গজব নাজিল হয়! হাজীর ঘরে পাজী! এইবার ঠেলা সামলা! সবাই মিলে নৌকা ফুটা করে ফেলতেছে, প্রধানমন্ত্রী কি বুঝেন না?’ অনেকেই নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন।

ফ্লাশব্যাক : ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের পুত্র ওয়ার্ড কমিশনার এরফান সেলিম রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। রাজনৈতিক খুঁটি ব্যবহার করে ধরাকে সরা জ্ঞান করেছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হলেও পিতা এবং শশুর ক্ষমতাসীন দলের এমপি হওয়ায় অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার আত্মীয়-স্বজনও প্রভাবশালী হওয়ায় তারাও বেপরোয়া। জানা যায় এরফান সেলিমের স্ত্রীর নাম জেরিন চৌধুরী আমরিন। শশুর একরামুল করীম চৌধুরী নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি। শাশুড়ি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার শিউলি।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৯ জুন রাতে এরফানের স্ত্রীর বড়ভাই শাবাব চৌধুরী মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে সেলিম ব্যাপারী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেন। ওই সময় কাফরুল থানায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নম্বর-১৮)। মামলার এজাহারেও গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১৩-৭৬৫৫ উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের পর সাবাব চৌধুরী গাড়ি নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউর ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ৬০২ নম্বর ফ্ল্যাটে এলে তাকে অনুসরন করেন কয়েকজন। ন্যাম ভবনের ভেতরে এসে সাবাব চৌধুরী উল্টো হুংকার দেন ‘এটা আমার এলাকা, ‘কে কে আসবি আস।’ ভয়ে অনুসরনকারীরা পিছু হটে যায়। তবে মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ঘাতক গাড়ি ও এর চালকের ছবি তোলেন এবং ভিডিও করেন। তবে হুমকি ধমকি দিয়ে সেসব ছবি ও ভিডিও ফোন থেকে মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়।

সেলিমের বাসায় অভিযান : ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। ঢাকাকে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করতে হাজী সেলিমের বাসায় গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ আধুনিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিসহ অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোল রুমে রয়েছে আধুনিক ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার), ৩৮টি ওয়াকিটকি, ড্রোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস। রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট বাহিনীর কাছে যেসব সরঞ্জাম থাকে, সেরকম সরঞ্জাম পাওয়া গেছে এখানে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় এই কন্ট্রোল রুম ব্যবহার করা হতো বলে র‌্যাবের ধারণা। বিদেশি অস্ত্র, হ্যান্ড কাফ ও মদও জব্দ করেছে র‌্যাব। ইরফান ও তার সহযোগীদের হাতে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান মারধরের শিকার হওয়ার জের ধরে গতকাল সোমবার বেলা ১টা থেকে পুরান ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের চকবাজারের ২৬ দেবীদাস লেনের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় হাজী সেলিমের ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গ্রেফতার করা হয় তার দেহরক্ষী জাহিদকে। তাকে গতকাল আদালতে হাজির করে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে গতকাল র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ইরফান সেলিম ও জাহিকে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক আ্ইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে র‌্যাব। র‌্যাব সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সাদা রঙের নয়তলা ওই ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ইরফান সেলিম থাকেন জানিয়ে র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, সেখানে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৮টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়া গেছে। আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো লাইসেন্স নেই। আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ, কালো রঙের এসব ওয়াকিটকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, এছাড়া ওই বাসায় একটি ড্রোন, রাউটার, একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার বা ভিপিএস পাওয়া গেছে। এই ভিপিএস দিয়ে মূলত তার পুরো নেটওয়ার্কে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতো, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ট্র্যাক করতে না পারে। সাধারণত ভিপিএস ব্যবহারের অনুমোদন পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা। বিটিআরসি এই অনুমোদন দেয়। তবে হাজী সেলিম কোনও অনুমোদন নেননি।

সাংসদ হাজী সেলিম কোথায় জানতে চাইলে আশিক বিল্লাহ বলেন, হাজী সেলিম বাড়িতে নেই। অভিযানের আগেই তিনি তার স্ত্রীসহ ডাক্তারখানায় গেছেন বলে জানা গেছে।”

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হাজী সেলিমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও সাড়া দেননি তিনি। আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী বেলাল হোসেনের মোবাইলে ফোন করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

ওয়াকিটকির মাধ্যমে ১২ কি.মি. : ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরফান সেলিমের বাস থেকে ৩৮টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, এগুলোর মাধ্যমে তিনি তার বাসার আশপাশের পাঁচ থেকে ১২ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা নেতাকর্মী ও অনুসারীদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া তার বাসার চার ও পাঁচতলার কন্ট্রোল রুম থেকে পাঁচটি ভিপিএস সেট উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডিটেক করতে পারতো না। গতকাল র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। অভিযানে গুলিসহ একটি পিস্তল ও একটি একনলা বন্দুক এবং একটি ব্রিফকেস ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে। তার অস্ত্র দুটির কোনো লাইসেন্স ছিল না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, এসব অস্ত্র ও হ্যান্ডকাফের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এরফান সেলিম। আমাদের ধারণা এগুলো দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন। এছাড়া এরফান সেলিমের বাসা থেকে একটি ড্রোন, সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

অস্ত্র ও মাদক রাখায় জেল : ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছর করে জেল দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
র‌্যাবের মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে ছয় মাস ও অবৈধ মাদক রাখার দায়ে ছয় মাস করে মোট এক বছর করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে দু’জনকে।

মামলায় যা বলা হয়েছে : নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে এক দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমানের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ৫ দিনের রিমান্ডের নেয়ার জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে, সোমবার সকালে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন। সে মামলায় এর আগে গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এজহারে বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর রাত পৌনে ৮টার দিকে নীলক্ষেত থেকে পাঠ্যবই কিনে লেফটেনেন্ট ওয়াসিফ ও তার স্ত্রী মোটরসাইকেলে ঢাকা সেনানিবাসে ফেরার পথে ল্যাবএইড হাসপাতালের কাছে রাস্তায় ঢাকা মেট্রো ঘ ১১-৫৭৩৬ গাড়ি তাদেরকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। পরিচয় দেয়ার পরও গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তি তাদের গালিগালাজ করে ও হত্যার হুমকি দেয়। এরপর কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের কাছে সেই গাড়িটিকে থামিয়ে নৌ কর্মকর্তা আবারও পরিচয় দিলে গাড়ির আরোহীরা সবাই নেমে এসে তাকে কিলঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে রাস্তায় ফেলে দেয়। আহত নৌ কর্মকর্তাকে আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে আরও বলা হয়, গাড়ির চালক ছাড়া অন্যরা পালিয়ে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ চালককে হেফাজতে নেন।

মামলায় মোট পাঁচটি ফৌজদারি অপরাধের ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধগুলো হলো- দন্ডবধি ১৪৩ অনুযায়ী বেআইনি সমাবেশের সদস্য হয়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলকভাবে বল প্রয়োগ করা, ৩৪১ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, ৩৩২ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধাদানের উদ্দেশে আহত করা, ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার ওপর বল প্রয়োগ করা এবং ৫০৬ ধারায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়া।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এরফানের গাড়ি ওয়াসিফকে ধাক্কা মারার পর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনি মেরে ফেলব’ বলে কিল-ঘুষি মারেন এবং আমার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। ইনকিলাব