বিড়ির ওপর শুল্ককর প্রত্যাহার করতে শ্রমিকদের ৫ দফা দাবি

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

বিড়িতে আরোপিত চার টাকা শুল্ককর প্রত্যাহার ও সিগারেটের সঙ্গে দামের বৈষম্য কমানোসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে শ্রমিকরা। রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানব্ন্ধনে এ দাবি জানান, বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বাঙ্গালী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ সংগঠনটির নেতারা।
তারা বলেন, একদিকে করোনা অন্যদিকে কর বাড়ানোয় মালিকরা কারখানা বন্ধ করে দেয়ায় বিড়ি শ্রমিকরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেশের লাখ লাখ শ্রমিকের স্বার্থ বিবেচনা না করে মূল্য বৈষম্য সৃষ্টির মাধ্যমে বিড়ির বাজার, বিদেশি সিগারেটের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা।
নেতারা বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বিড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা বিকল্প কোন কাজ না পেয়ে বিড়ি কারখানায় শ্রম দেয়। বিড়ি শিল্পে সমাজের অসহায়, বিশেষ করে চর, মঙ্গা অঞ্চলের অসহায় মানুষ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, পঙ্গুসহ বেকার শ্রমিকদের একমাত্র কর্মসংস্থান। কিন্তু বিড়িতে মাত্রাতিরিক্ত করারোপের ফলে বিড়ি মালিকরা কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে শ্রমিকরা কর্ম হারিয়ে বেকার জীবন যাপন করছে। করোনা মহামারীতে কর্মের অভাবে তারা চরম অসহায়ত্বে দিনাতিপাত করছে। এ বছর ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটেও প্রতি প্যাকেট বিড়ি ৪ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করে বিড়িকে স্বমূলে ধ্বংস করার আরেকটি কৌশল অবলম্বন করেছে। বিড়িতে প্যাকেট প্রতি যেখানে ৪ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে সেখানে নিম্নস্তরের সিগারেটে মাত্র ২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও মধ্যমস্তরের সিগারেটে কোন ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়নি। এই মূল্য বৈষম্য সৃষ্টির মাধ্যমে বিড়ির বাজার সিগারেটের হাতে তুলে দিয়েছে। ফলে বিদেশি সিগারেট কোম্পানি একচেটিয়া ব্যবসা করে এদেশ থেকে প্রচুর টাকা পাচার করছে। এছাড়াও বিড়ির উপর শুল্ক বৃদ্ধির কারণে নকল বিড়িতে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। ফলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আমরা এই মূল্য বৈষম্য সৃষ্টির তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং বাজেটে মূল্য বৃদ্ধি প্রত্যাহার করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং করোনাকালীন সমস্যায় বিড়ি শিল্পকে সচল রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক ও পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি হেরিক হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মায়া বেগম, নারায়নগঞ্জ জেলা বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শামীম ইসলাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু,সহপ্রচার সম্পাদকসিরাজুল ইসলাম, নারায়নগঞ্জ জেলা বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
পরে বিড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহার করে সংকটে থাকা বিড়ি শিল্পকে সচল রাখতে ৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর।