বার্সেলোনা ছেড়েই দিলেন মেসি!

প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ণ , আগস্ট ২৬, ২০২০

গুঞ্জন শুরু হয়েছিল আগেই- বার্সেলোনা ছাড়তে চান মেসি। সেই পালে হাওয়া লাগে স্প্যানিশ লা লিগায় চির প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে শিরোপা খোয়ানোর পর। আর তাতে আগুনে-ঘি ঢালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত হবার পর।

একের পর এক নেতিবাচক খবরের সঙ্গে এক ফ্যাক্স বার্তা যেন বোমা ফাটাল বার্সেলোনায়। নতুন মৌসুম শুরুর আগে কাতালান ক্লাবটি ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা পালাবদলের ডাক দেয়া নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যানও বদলাতে পারেননি তার মন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস মঙ্গলবার জানায়, মনস্থির করে ফেলেছেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। তাই চুক্তির একটি ধারা সক্রিয় করে বিনা ফিতে ছাড়তে চাইছেন ন্যু ক্যাম্প!

স্প্যানিশ সাংবাদিক আলফ্রেদো মার্তিনেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে লিখেছেন, মেসি চলতি সপ্তাহে বার্সার তত্ত্বাবধানে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাবেন না বা দলটির সঙ্গে প্রশিক্ষণে যোগ দেবেন না। এটাই নাকি তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বার্সা একটি জরুরি বোর্ড সভাও ডেকেছে।

ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার এক টুইটে মন্তব্য করেন, নতুন ঠিকানায় তাকে যেতে দেওয়া উচিত। মেসির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের সাবেক অধিনায়ক কার্লোস পুয়োলও। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা লিখেছেন, ‘লিও, (তোমার প্রতি) শ্রদ্ধা ও প্রশংসা। বন্ধু, আমার সমস্ত সমর্থন থাকবে (তোমার প্রতি)।’

এই সংবাদ প্রকাশের পর থেকে কাতালান ক্লাবটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোজেপ মারিয়া বার্তোমেউর প্রতি ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভে নেমেছেন সমর্থকরা। তারা বার্তোমেউর পদত্যাগের দাবি ‍তুলেছেন।

স্প্যানিশ ক্লাবটির সঙ্গে মেসির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২০-২১ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। তার রিলিজ ক্লজ ৭০ কোটি ইউরো। ২০ বছর ধরে বার্সেলোনায় খেলে ক্লাবটির ঘরের খেলোয়াড় হয়ে গিয়েছিলেন মেসি; ৩৩ বছর বয়সে এসে এখন সেই বন্ধন ছিন্ন করতে যাচ্ছেন।

তবে মেসির প্রস্থানের ক্ষেত্রে আইনি একটি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে বিবিসি জানিয়েছে। কারণ চুক্তিপত্র অনুযায়ী, পেরিয়ে আসা ১০ জুনের মধ্যে মেসি তার ইচ্ছার কথা জানালে তিনি বিনা ফিতে ক্লাব ছাড়ার সুযোগ পেতেন।

সেই সময় পেরিয়ে গেছে বলে চুক্তিপত্রের ওই ধারা এখন আর কার্যকর নয় বলে ক্লাব কর্মকর্তারা দাবি করলেও মেসি ও তার আইনজীবী মনে করছেন, করোনাভাইরাস সঙ্কটে ফুটবল মৌসুম প্রলম্বিত হওয়ায় ওই শর্তের কার্যকারিতাও ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়বে।

লিনেকার বলছেন, “রিলিজ ক্লজ সক্রিয় করে যদি মেসি বার্সেলোনা ছাড়তে চায়, তাহলে আমি আশা করব, ক্লাব তাকে সাহায্য করবে, বাধা দেবে না। সে ভীষণ অনুগত এবং তাদের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। খেলোয়াড় এবং ক্লাবের মধ্যে লড়াই দিয়ে এই সম্পর্ক যদি শেষ হয়, সেটা খুবই দুঃখের হবে।”

এখন ক্লাব আর মেসির আইনজীবীর দর কষাকষিতেই ঠিক হবে, এই ফুটবল তারকার বার্সেলোনা থেকে প্রস্থান কেমন হবে।