আদিবাসী তরুণীর প্রেমের সাজা ‘গণধর্ষণ’

প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ২৪, ২০২০

ভারতের বীরভূমের ভিনজাতের যুবকের সঙ্গে প্রেমের শাস্তি হিসেবে স্বামীহারা আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণ এবং সালিশি বসিয়ে জরিমানা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বীরভূমের মহম্মদবাজারের ওই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ওই গ্রামেরই মোড়লসহ তিনজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ওই তরুণীর ওপর নিপীড়ন চললেও বিষয়টি জানাজানি হয় শনিবার বিকালে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই সন্তানের মা, বছর ত্রিশের ওই তরুণীর মহম্মদবাজারের চরিচা পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মারা যান।

এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ওই যুবক ভিনজাতের হওয়ায় তা ভালো চোখে দেখেনি গ্রামবাসীদের একাংশ।

পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ১৮ আগস্ট গ্রামে পূজা ছিল। সে দিন সন্ধ্যায় শেওড়াকুড়ি মোড় থেকে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে গ্রামে ফিরছিলেন।

তখনই গ্রামের বেশ কিছু লোক তাদের ক্লাবঘরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। রাত প্রায় আড়াইটার দিকে ক্লাবের সদস্য পাঁচ যুবক পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তাকে গণধর্ষণ করে।

পর দিন সকালে দুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। দুদিন আতঙ্কে থাকার পর আদিবাসী নেতা রবিন সরেনের উদ্যোগে পুলিশে অভিযোগ করেন নির্যাতিতা।

রবিন বলেন, ‘খুবই ভয়ে আছেন নির্যাতিতা। এ অন্যায় মেনে নেয়া যায় না। তাই তার পাশে দাঁড়িয়েছি।’

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আদিবাসী সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের সম্পাদক নিত্যানন্দ হেমব্রমও।

লিখিত অভিযোগে সালিশির কথা উল্লেখ না করলেও গ্রাম সূত্রে জানা গেছে, গণধর্ষণের পর বুধবার সকালে সালিশি বসিয়ে ফয়সালা করার সিদ্ধান্ত নেন গ্রামেরই কিছু লোক।

সেখানেই নির্যাতিতাকে ১০ হাজার টাকা ও তার সঙ্গীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আদিবাসী নেতা সুনীল সরেন বলেন, ‘ওই নারীকে ক্লাবে আটকে রাখা এবং সালিশি বসানোর কথা জেনেছি। তার ওপর কী ধরনের অত্যাচার হয়েছে, বিস্তারিত খবর নিচ্ছি।’

২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি লাভপুরের সুবলপুরেও ভিনজাতে সম্পর্ক রাখার ‘অপরাধে’ আদিবাসী তরুণী ও তার সঙ্গীকে রাতভর গাছে বেঁধে মারধর করা হয়েছিল। পর দিন সালিশি বসিয়ে গ্রামের মেয়েটিকে নিয়ে ‘ফুর্তি’ করার রায় দেয়। গণধর্ষণের সেই মামলায় ১৩ জন সাজা পায়।

মহম্মদবাজারের ঘটনায় সালিশির কথা মানলেও অভিযুক্তদের পরিবারের দাবি, গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় সিউড়ি জেলা হাসপাতালে নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ বলেন, নির্যাতিতা পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। জলপা হাঁসদা ও তাম্বর মরান্ডি নামে দুজন ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে। রোববার দুপুরে গ্রেফতার করা হয়েছে গ্রামের মোড়লকেও।

মামলার এপিপি শুভাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুলিশ আটক দুজনের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। সাত দিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। এ দিনই নির্যাতিতার জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।