টেক্সাসে খুন বাঙালি গবেষক

প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৫, ২০২০

অ্যামেরিকার টেক্সাসে প্লেনোসিটি অঞ্চলে পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। গত শনিবার সকালে জগিং করতে বেরিয়েছিলেন। আর বাড়ি ফেরেননি। পরে বাড়ির অদূরের একটি পার্ক থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রতিদিন সকালে দুই ছেলে ঘুম থেকে ওঠার আগে জগিং করতে যেতেন শর্মিষ্ঠা। টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মলিকিউলার বায়োলজি এবং ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করতেন তিনি। ভারতে তাঁর বাড়ি ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে। তবে স্কুলের পড়া শেষ করে প্রথমে বেঙ্গালুরু এবং পরে অ্যামেরিকায় চলে যান তিনি। বহু বছর সেখানেই পাকাপাকি ভাবে থাকতেন। তাঁর স্বামীর নাম অরিন্দম রায়। পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতোই জগিংয়ে বেরিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। কিন্তু ফিরতে দেরি হওয়ায় তাঁর খোঁজ শুরু হয়। বেলার দিকে পার্ক থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে শর্মিষ্ঠাকে। তবে তার আগে তাঁকে যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলেও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।ঘটনার তদন্তে নেমে ২৯ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম বাকারি আবিওনা মনক্রিফ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ ডাকাতির জন্যই শর্মিষ্ঠাকে খুন করেছে বাকারি। ওই একই দিনে পার্কের অদূরে একটি বাড়িতে চুরি হয়। তার সঙ্গেও বাকারি যুক্ত বলে পুলিশের ধারণা। তবে স্থানীয় বাসিন্দা এবং শর্মিষ্ঠার বন্ধুদের অনেকেরই বক্তব্য, যে ভাবে শর্মিষ্ঠাকে খুন করা হয়েছে, তা কেবল ডাকাতির জন্য বলে মনে হয় না। এর সঙ্গে বর্ণবাদের সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্ববিদ্যালয় এবং এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন শর্মিষ্ঠা। অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে গান এবং নাচ করতেন। সকলের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁর। ঘটনার পরে তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন বন্ধু মারিও মেজর। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ”শর্মিষ্ঠার মতো মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা কী ভাবে ঘটল, বুঝতে পারছি না।”

শর্মিষ্ঠার বাবা-মা দু’জনেই আগে ধানবাদে কাজ করতেন। তবে এখন তাঁরা কলকাতায় থাকেন। ভাই চিকিৎসক। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন। ঘটনার পরে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। (আবাপ)