২০০ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ২:২৫ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ৮, ২০২৪

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পূর্ব বিরোধের জেরে আফরোজ মিয়া (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

শনিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের গনকিরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আফরোজ মিয়া একই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত আফরোজের আরও তিন ভাই। তারা হলেন, আসকির মিয়া (৫০), তাজুল ইসলাম (৩৮) ও নাসির মিয়া (২৭)। তারা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী শাহেনা বেগম বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, ‘দোকানের পাওনা টাকা নিয়ে আমার স্বামী বিচার করছিলেন। এই ক্ষোভে অভিযুক্ত রতনের শ্বশুর, শ্যালকসহ শ্বশুর পক্ষের আত্মীয়-স্বজনরা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

মামলা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুলাই) দুপুরে ওই এলাকার ইসহাকের মেয়ের জামাই রতন মিয়া স্থানীয় শিরিনার দোকান থেকে বাকিতে ২০০ টাকার সদাই করেন। পরদিন বিকেলে টাকা চান দোকানদার শিরিনা। ওই সময় টাকা পরিশোধ করতে অনীহা প্রকাশ করেন রতন মিয়া। এনিয়ে শিরানা ও রতনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শিরিনার দোকানে ভাঙচুর চালায় রতন। ওই সময়ে উপস্থিত ছিলেন নিহতের ভাই তাজুল মিয়া। তিনি রতনকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে শিরিনার টাকা পরিশোধ করতে বলেন। এসময় তাদের মধ্যেও বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মুরুব্বীরা বিরোধ নিষ্পত্তি করেন এবং ২০০ টাকা শিরিনা দোকানদার পাবে মর্মে সিদ্ধান্ত দেন।

এই ক্ষোভে শনিবার রাতে নিহত আফরোজের ঘরে ঢিল ছুড়ে অভিযুক্ত রতন। বিষয়টি রতনের শ্যালক রুবেলকে জানানো হয়। এনিয়ে ফের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর উভয়ের মধ্যে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন আফরোজ মিয়া। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিল্লোল রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Loading