পুলিশের গুলিতে পুলিশ নিহত, সিসিটিভির ফুটেজে যা দেখা গেল

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ , জুন ৯, ২০২৪

বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ফিলিস্তিন দূতাবাসের পাশের চেকপোস্টের বাইরে দাঁড়ানো কনস্টেবল মনিরুলকে ছিটকে সড়কে পড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর কনস্টেবল কাওছার দ্রুত চেকপোস্ট থেকে বের হয়ে এসে উপর্যুপরি গুলি করেন মনিরুলকে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার রাত ১১টা ৩৭ মিনিট ২ সেকেন্ডে চেকপোস্ট থেকে একটি খাতা হাতে বের হয়ে যাচ্ছেন কনস্টেবল মনিরুল হক। তখন চেকপোস্টের ভেতরে ছিলেন কনস্টেবল কাওছার। এর প্রায় ২ মিনিট পর ১১টা ৩৯ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের দিকে কাওছার চেকপোস্ট থেকে বের হন। তিনি তখন চেকপোস্টের বাইরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। ১১টা ৩৯ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের দিকে মনিরুল হক চেকপোস্টের দিকে ফিরে আসেন।

তখন কনস্টেবল কাওছার ফের চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। মনিরুল চেকপোস্টের দরজা দিয়ে কাওছারের হাতে খাতাটি তুলে দেন। তখন তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এরপর মনিরুল ১১টা ৪০ মিনিট ২ সেকেন্ডের দিকে চেকপোস্টের জানালার কাছে যান। তখনও তাদের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হয়।

এর একপর্যায়ে ১১টা ৪০ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে হঠাৎ মনিরুল তার পিঠে রাখা অস্ত্র ও একটি কাগজসহ সড়কে পড়ে যান। মনিরুল তখন উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাওছার তখন দ্রুত চেকপোস্ট থেকে বের হয়ে মনিরুলের বুকে বন্দুক তাক করে উপর্যুপরি গুলি করেন। ১১টা ৪০ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড পর্যন্ত গুলি করেন কাওছার। এরপর তিনি মনিরুলের দেহের পাশ থেকে কিছু একটা তুলে নিয়ে ফুটপাতে ফিরে যান।

রাত ১১টা ৪১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের দিকে একজন লোক ঘটনাস্থলে এসে এই অবস্থা দেখে ফিরে যান।

গতকাল শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঘটা এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই সড়কে যান চলাচল। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় কনস্টেবল কাওছারকে নিরস্ত্র করা হয়। ছুটে আসেন পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট, গোয়েন্দা শাখাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাস্থলে তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণসহ সবকিছু শুনে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তের আগে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

এদিকে রোববার গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম গণমাধ্যমকে বলেন, কনস্টেবল কাওছারের অস্ত্রের একটি ম্যাগজিনে মোট ৩০ রাউন্ড গুলি ছিল। তিনি সবগুলোই ফায়ার করেছেন। পরে আরেক ম্যাগজিনের ৮ রাউন্ড গুলি ফায়ার করেন।

রিফাত রহমান শামীম বলেন, আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল অভিযুক্ত কাওছারের কাছে। অস্ত্রটি ব্রাজিলের তৈরি।

দৈনিক যুগান্তর

Loading