বেনাপোলে চলন্ত ট্রেনে হিজড়াদের চাঁদাবাজি ও হেনস্তা, রেলওয়েতে লিখিত অভিযোগ স্টাফ রিপোর্ট স্টাফ রিপোর্ট যশোর প্রকাশিত: 8:45 PM , July 20, 2026 বাংলাদেশ রেলওয়ের বেনাপোল-যশোর রুটে চলাচলকারী ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ জুলাই (শনিবার) বিকেল ৩:২৫ মিনিটে বেনাপোল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক যুবক বেনাপোল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এবং স্টেশন মাস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মহাসিন হোসেন নামের এক যুবক পরিবারসহ রূপসী বাংলা ট্রেনে যশোর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বগিতে দুজন হিজড়া প্রবেশ করে যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আপত্তিকর ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি শুরু করে। প্রতিবাদ করায় তারা আরও উগ্র রূপ ধারণ করে এবং পরিবারের সামনেই তাকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে সব যাত্রীর সামনেই তাকে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে ট্রেনের ভেতর চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়।ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী যাত্রী মহাসিন হোসেন বলেন, “রূপসী বাংলার মতো একটি আভিজাত্যপূর্ণ ও প্রথম শ্রেণীর আন্তঃনগর ট্রেনে দেশের বিশিষ্ট ও সম্মানিত নাগরিক এবং অভিজাত যাত্রীরা যাতায়াত করেন। এমন একটি মানসম্মত ট্রেনে অননুমোদিত বহিরাগত ও হিজড়ারা উঠে কীভাবে যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করে এবং হেনস্তা করার সাহস পায়? পাবলিক পরিবহনে মা-বোনদের নিয়ে যাতায়াত করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন যাত্রী হিসেবে প্রতিবাদ করায় পরিবারের সামনে আমাকে এমন নোংরা হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। আমি এর স্থায়ী প্রতিকার চাই, যেন আর কোনো সন্তানকে পরিবারের সামনে এভাবে লজ্জিত হতে না হয়।”এ বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা জানান, ট্রেনে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জিআরপি পুলিশ চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টিকিট বা অনুমতি ছাড়া ট্রেনে হিজড়া, হকার বা বহিরাগতদের প্রবেশ বেআইনি। ঘটনার পর স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ট্রেন ছাড়ার সময় কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি যেন উঠতে না পারে, সেজন্য গার্ড ও নিরাপত্তা কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জিআরপি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হচ্ছে। শেয়ার আইন-আদালতবিষয়: