১০ মিনিটে মহৎ সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ২৯, ২০২০

মাত্র ১০ মিনিটে আপনি আপনার জীবনের একটি মহৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যা সর্বোচ্চ দুইজন মানুষের জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে… ১০ মিনিটের জন্য আপনি আপনার চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে কিংবা চোখ বন্ধ রেখে পাশের ঘর থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে আসুন, বা রান্নাঘর থেকে খাবার নিয়ে আসুন, বা কাউকে মোবাইলে কল করার চেষ্টা করুন, বা আলমারি থেকে আপনার পছন্দের কাপড়টি খুঁজে বের করুন… (‘Ten Minutes in Darkness’ থিওরি…)

কি? অসম্ভব মনে হচ্ছে? নিজেকে অসহায় লাগছে? দম বন্ধ হয়ে আসছে?

কিন্তু আপনি তো ঠিক ১০ মিনিট পরেই পৃথিবীর সৌন্দর্য আবার উপভোগ করতে পারবেন, দেখতে পারবেন আপনার প্রিয় মানুষদের মুখ, করতে পারবেন জীবনধারণের জন্য সকল প্রয়োজনীয় কাজ… কিন্তু বাংলাদেশের এখনো ১৪ লক্ষ মানুষ আছেন যারা পৃথিবীর আলো থেকে বঞ্চিত (এর মাঝে ৫ লাখ মানুষ চোখের কর্ণিয়াজনিত জটিলটায় এখন অন্ধ)… প্রতি বছর আরো ৪০ হাজার মানুষ অন্ধত্বের শিকার হচ্ছে… হ্যাঁ, সংখ্যাটা আতঙ্কিত হবার মতই…

কিন্তু এর সমাধান আছে আমার-আপনার কাছেই…

এর সমাধান হল “মরণোত্তর চক্ষুদান”… মরণোত্তর চক্ষুদান হলো মৃত্যুর পর কর্নিয়া দান করার জন্য জীবিত অবস্থায় অঙ্গীকার করা, অর্থাৎ আমরা জীবিত অবস্থায় অঙ্গীকার করবো যে, আমাদের মৃত্যুর পর আমরা আমাদের চোখ অন্ধ মানুষদের দান করে যাবো… আমাদের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া এই চোখ জোড়া দুইজন অন্ধ মানুষকে পৃথিবীর আলো দেখাবে, বেঁচে থাকতে শেখাবে… ঠিক একদম সুস্থ মানুষের মত… কর্ণিয়া ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমে এই ৫ লাখ অন্ধ মানুষকে ম্যাজিকের মত সুস্থ করে দেয়া সম্ভব… মরণোত্তর চক্ষুদানের মাধ্যমে আপনিও অমর হয়ে থাকবেন অন্যের চোখের মাধ্যমে…

► কারা চক্ষুদান করতে পারবেন?
দুই বছর বয়সের উর্ধ্বের যেকোনো মানুষ দুইজন অভিভাবকের অনুমতিসাপেক্ষে মরণোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে পারেন… দুইজন অভিভাবকের অনুমতি নেয়া অবশ্যই জরুরি কারণ মরণোত্তর চক্ষুদাতার মৃত্যুর পর অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া চোখ সংগ্রহ সম্ভবপর হয় না… তাই শুরুটা করতে হবে পরিবার থেকে …

► ‘মরণোত্তর চক্ষুদান’ কি বাংলাদেশে অনুমোদিত?
হ্যাঁ… মানব দেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন ২০১৮ সনের ৫নং আইনের ধারা-৫ মোতাবেক বাংলাদেশে মরণোত্তর চক্ষুদান অনুমোদিত… এমনকি আমাদের দেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরণোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন… চক্ষুদান প্রক্রিয়াটি সম্পুর্ন বিনামূল্যে হয়… চক্ষুদাতা এবং চক্ষু গ্রহিতা এর মাঝে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয় না… কেনাবেচা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং ধর্মীয়ভাবে হারাম…

► ‘মরণোত্তর চক্ষুদান’ এর ব্যাপারে ধর্মীয় বিধান কি বলে?
১৯৬৬ সালে মিশরের সর্বোচ্চ মুফতি প্রথম অংগ-প্রত্যঙ্গ দানের জর্ডান এবং ১৯৭৯ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে আলেমদের সর্বোচ্চ কাউন্সিল চিকিৎসার প্রয়োজনে চক্ষু প্রতিস্থাপনের পক্ষে ফতোয়া জারী করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠেয় মুসলিম লীগের ফিকাহ্ একাডেমীর ৮ম সভায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও প্রতিস্থাপন ইসলাম ধর্মের সাথে সংগতিপূর্ণ বলে মতামত প্রদান করে। সিরিয়া, মিসর, মরক্কো, তিউনিশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ইত্যাদি মুসলিম প্রধান দেশে বিশেষ করে আলেমদের অংশগ্রহণে চক্ষুদানের মহৎ ধারা ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। সুতরাং ইসলাম ধর্মে চক্ষুদানে কোনো বাধা নেই… পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মেও মরণোত্তর চক্ষুদানে কোনো বাধা নেই। (তথ্যসুত্রঃ সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি)

► আমরা কিভাবে কাজ করবো?
কিছুদিন আগে আমার চোখের একটি অপারেশন হয়েছিল, আমি উপলব্ধি করতে পারছি, চোখ আমাদের এক অমুল্য সম্পদ, সর্বোচ্চ আশীবার্দ এবং জীবনে পাওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার… অন্ধ মানুষেরা কতটা মানবেতর দিন যাপন করে শুধু একবার চিন্তা করে দেখুন!! কিন্তু ‘মরণোত্তর চক্ষুদান’ সেক্টর নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ তেমন কিছু জানে না, পাশাপাশি ভুল ধারণাও রয়েছে… প্রচার নেই কোনো…

চক্ষু গ্রহন এবং বিতরনের অনুমোদন রয়েছে শুধুমাত্র ‘সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি’ এর যা পুরোপুরি অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান… ‘সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি’ এর সাথে আমাদের একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হয়েছে… বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের মরণোত্তর চক্ষুদানে সন্ধানী আমাদের শতভাগ সাপোর্ট দিবে… এমনকি সন্ধানী একটি ডেডিকেটেড টিম বানিয়েছে আমাদের জন্য যারা আপনাদের চক্ষুদান বিষয়ক পরামর্শ দিবেন পুরোপুরি বিনামূল্যে…

নতুন একটু ফেইসবুক গ্রুপ তৈরি করেছি অন্যের চোখে বাঁচি (মরণোত্তর চক্ষুদান)… একদম শূন্য থেকে কাজ শুরু করতে হবে… প্লিজ এই গ্রুপে জয়েন করুন, এবং আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের সকল ফ্রেন্ডদের যুক্ত করুন যেন ‘মরণোত্তর চক্ষুদান’ বৃদ্ধিতে আমরা সবাইকে সচেতন করতে পারি… চক্ষুদান বিষয়ক সব আলোচনা এই ফেইসবুক গ্রুপে হবে, তাই জয়েন করুন… বিশেষ করে ভলান্টিয়াররা…

চক্ষুদান বিষয়ক পুর্নাঙ্গ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছি ( www.EyeDonationBD.com ) যা আপনাকে চক্ষুদান বিষয়ক সকল তথ্য জানাতে পারবে… ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মরণোত্তর চক্ষুদাতা হিসাবে আপনি প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন… “সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি” আপনার সাথে যোগাযোগ করে রেজিস্ট্রেশন ফাইনাল করে নিবে… পাশাপাশি, চক্ষুদান বিশেষজ্ঞের সাথে বিনামূল্যে পরামর্শের জন্য আপনার নাম, জেলা, মোবাইল নম্বর আমাকে এই পোষ্টে বা ওয়েবসাইট থেকে জানিয়ে দিতে পারবেন… সন্ধানী চক্ষুদান সমিতির বিশেষজ্ঞ টিম আপনার জন্য অপেক্ষমাণ…

তবে শুরু হোক অন্ধত্বমোচন কার্যক্রম… টার্গেট ৫ লাখ মানুষের অন্ধত্বমোচন…

আমি আমার চোখ দান করে যাবো… আমার সাথে আমার ‘মা’ও প্রস্তুত… আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের চোখ দিয়ে মানুষ এই পৃথিবী দেখবে – ভাবতেই শিহরিত হচ্ছি… এই শিহরণ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন…

“জীবনের শেষ দান,
মরণোত্তর চক্ষুদান…”