আজহার মাহমুদ

আগুনের শেষ কোথায় হবে?


আগুনে পুড়ে মৃত্যু। কত যন্ত্রণা কত কষ্টের সেটা নিজে না পুড়লে অনুভব করা যাবে না। আপনি কি কখনও আগুনের ছেঁকা খেয়েছেন? তাহলে হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পারবেন, কত ভয়ানক আর যন্ত্রণাদায়ক। আগুনে পোড়া এসব মানুষকে দেখলেও অনুমান করা যেতে পারে। অথচ, অর্থহীন শুধু সাময়িক সমবেদনা দেয়ায় আমাদের কাজ! বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের কারও প্রতি কোনো দয়ামায়া নেই। যদি থাকত তাহলে অসহায় মানুষের আগুনে পোড়ার দৃশ্যগুলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতো না। আর মোবাইলে ভিডিও করে ফেসবুকেও দিত না। কথায় আছে- রোম যখন পুড়ছিল, নিরু তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল। আসলে, আমরা সবাই লোক দেখানো কর্ম করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। ফেসবুকে কয়েকটা লাইক এবং কমেন্ট পাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মানুষ ছবি তুলছে। আর, কিছু মানুষ যেন লাইভ সিনেমা দেখছেন। যদি দেখতেই হয় বাসায় এসে টেলিভিশনে দেখতেন। ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে ফায়ার সার্ভিসের কাজে বিঘ্ন ঘটানোর কোনো মানে তো হয় না। আসলে, এ সব দেখতে দেখতে এখন বিরক্তি চলে এসেছে। বড় বড় সেলিব্রেটিগুলো এ সব বেদনাদায়ক ঘটনাগুলো নিয়ে সমবেদনা আর শোক জানায়। আর, মিডিয়া এ সব ফলাও করে প্রচার করে। প্রকৃতপক্ষে কী করতে হবে, এ সব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। শুধু সমবেদনা আর শোক প্রকাশ করাই তাদের ধর্ম-কর্ম। নিমতলী, চকবাজার, বনানী, গুলশান, এরপর কোথায় আগুন জ্বলবে সে ভয়ে আছে মানুষ। 
আগুন লাগবে এটা অস্বাভাবিক না। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস আসতে অতিরিক্ত দেরি হওয়া অস্বাভাবিক। আগুন লাগার পর মানুষকে জীবিত রাখতে না পারাটা অস্বাভাবিক। কিন্তু কেন এই অস্বাভাবিক ঘটনাগুলো ঘটবে? একেকটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করলেই কি শেষ! বহুতল ভবন থেকে মানুষকে কীভাবে বাঁচাতে হবে সেই প্রক্রিয়াও জানা নেই আমাদের দেশে।
মানুষ জানালা দিয়ে হাত নেড়ে বলছে বাঁচাও বাঁচাও। ওরা চিৎকার করে বলছে, ওরা বাঁচতে চায়। কিন্তু আমরা ওদের বাঁচাতে পারছি না। এই বাঁচাতে না পারার কারণ কি? কারণ খুব সহজ। প্রথমত, অপরিকল্পিত নগরায়ণ। আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে ঢাকা। যার কারণ হলো ঢাকায় তৈরি হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে সব দালান। দালানের জঙ্গল গড়ে উঠেছে ঢাকায়। ফায়ার সার্ভিস আসার মতো সুযোগও অনেকে রাখে না। যা চকবাজারে ঘটনাটিতে আমরা দেখেছি। যে সব দালান গড়ে উঠছে সেগুলোতেও কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। যার ফলে এ সব দালানে আগুন লাগলে মানুষকে বাঁচানো সহজ হয়ে ওঠে না। তাই দালানের মালিকদের সচেতন হতে হবে অনেক বেশি। দেখতে পেলাম মানুষ বাঁচার জন্য নিচের দিকে দালান থেকে লাফ দিয়েছে। এরা তারপরও মৃতু্যবরণ করেছে। উন্নত দেশের অবস্থা তার বিপরীত। উন্নত দেশে আগুন লাগলেও মানুষ দালান থেকে লাফ দিয়ে নিচে সুরক্ষিত থাকে। আমাদের দেশে আজও সে ব্যবস্থাও নেই। আমাদের এ সব দিকে আরও অনেক বেশি নজর দিতে হবে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও তেমন দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশলে তারা দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেনি। তাই, এই সেক্টরকেও আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তা ছাড়া, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারার কারণ কি এটাও তদন্ত করার প্রয়োজন আছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার উপকরণের অভাব থাকলে সরকারের কাছে অনুরোধ সে সব উপকরণসহ আরও কয়েকটি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট স্থাপন করুন। অন্তত দেশের মানুষকে বাঁচান। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা, বাংলাদেশকে যেন অগ্নিকান্ডের হাত থেকে রক্ষা করে।

লেখক: আজহার মাহমুদ

প্রাবন্ধিক, কলামিষ্ট ও ছড়াকার

ইমেইল: azharmahmud705@gmail.com

07.04.2019 | 02:17 PM | সর্বমোট ৩২১ বার পঠিত

আগুনের শেষ কোথায় হবে?" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

চামড়া নিয়ে একটি চক্র খেলায় মেতেছে

এবার পবিত্র ঈদুল আযহার কোরবানির চামড়ার বাজারে ধস প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, পশুর চামড়ার দরপতনের ‘খেলায় মেতে উঠাছে একটি...... বিস্তারিত

17.08.2019 | 05:55 PM


রাজধানী

ঝিলপাড় বস্তিতে পুড়েছে ৬০০ ঘর, ধ্বংসস্তুপে চলছে অনুসন্ধান

মিরপুর-৭ নম্বর সেকশনের ঝিলপাড় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচশ থেকে ছয়শ ঘর পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত...... বিস্তারিত

17.08.2019 | 01:27 PM


চট্টগ্রাম

মদপানে চট্টগ্রামে ৩ জনের মৃত্যু

মদপান করে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।  বুধবার রাতে আকবর শাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। মৃতরা...... বিস্তারিত

15.08.2019 | 04:57 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

পাপ মোচনের মাধ্যমেই শেষ হয় হজের আনুষ্ঠানিকতা

হজ ইসলামের পঞ্চম রোকন। বিশ্ব মুসলিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রত্যেক আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্যবানের ওপর হজ ফরজ। একজন হাজীকে আল্লাহ...... বিস্তারিত

11.08.2019 | 07:50 PM


বিনোদন

অবশেষে প্রেমিককে বিয়ে করেছেন কনা

সংগীতশিল্পী কনা ক্যারিয়ারের দারুণ সময় পার করছেন। ‘রেশমি চুড়ি’, ‘ধিমতানা’ গানগুলো দিয়ে অনেক আগেই শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।...... বিস্তারিত

15.08.2019 | 01:01 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ