মাহমুদুল হক আনসারী

গণপরিবহনে শৃংখলা ও জনভোগান্তি

গণপরিবহনে জনদুর্ভোগের সীমা নেই।রাজনৈতিক সামাজিক বিভিন্ন আন্দোলন থেকে এ সেক্টরের শৃংখলার জন্য নানাভাবে দাবি পরামর্শ আসলেও সেগুলোর কোনো বাস্তবায়ন নেই।প্রতিদিন রাস্তায় তাজা রক্ত ঝরছে।ছাত্র থেকে কর্মজীবি পেশাজীবি দিনমজুর কেউ পরিবহনের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।দেশের প্রধানমন্ত্রী পরিবহন সেক্টরের জন্য কতিপয় নির্দেশনা প্রদান করলেও এখনো তার বাস্তবায়ন দেখছি না।সরকারের সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী রাস্তার এক্সিডেন্ট হলেই বক্তব্য ছুড়ে দেন।নানাভাবে পরিবহন সেক্টরকে শৃংখলায় আনার কথা বলেন।বাস্তবে সড়ক ও পরিবহনের কোনো শৃংখলা জনগণ পাচ্ছে না।সারাদেশে রাস্তা বাড়ছে, সম্প্রসারিত হচ্ছে, কিন্তু রাস্তার কোনো শৃংখলা পরিবহন শ্রমিক মালিক সমিতি মানতে চায় না।রাস্তার দু ধারে সারাদেশেই গাড়ি পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা, লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন পরিবহন চলা অব্যাহত আছে।ট্রাফিক শৃংখলা পরিবহন গ্রুফগুলো মানতে রাজি নয়।দূরপাল্লার গাড়িগুলোর যেখানে স্টপিজ থাকার কথা সেখানে তারা স্টপিজ মানে না।যেখানে সেখানে রাস্তার উপর পরিবহন রেখে যাত্রী উঠানামা করে।কতিপয় ট্রাফিক পুলিশকে বকশিশ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যান চলাচলের রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করে রাখে।এভাবে অর্ধেক রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের মোড় পরিবহন শ্রমিক মালিকদের দখলে চলে যায়।অদক্ষ চালক হেল্পার দিয়ে গাড়ি চালানো কোনোভাবেই থামছে না।শিশু শ্রমিক দিয়ে ড্রাইভার এবং গাড়ির হেল্পারি করা হচ্ছে।সম্প্রতি দেশের সর্বস্তরের ছাত্রসমাজ নির্দলীয় নিরপেক্ষভাবে রাস্তার নিরাপত্তার জন্য আন্দোলনের ফলে পরিবহন সেক্টর কিছুটা নড়ে চড়ে বসে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন, বিআরটিএ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সড়কে নিরাপত্তা শৃংখলা আনতে মাঠে নামে।ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করে রাস্তায় যখন পরিবহণ সেক্টরের অনিয়ম বিশৃংখলার বিরোদ্ধে এ্যাকশানে যাচ্ছে তখন পরিবহণ মালিক শ্রমিক বেঁকে বসা শুরু করল।তারা এতোদিনের রাস্তায় চলাচলরত গণপরিবহন উধাও করে ফেলল।হাজার হাজার গণপরিবহণ রাস্তা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখল।ফলে সকাল বিকেল অফিস টাইমে যাত্রীদের চরমভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।স্কুল কলেজ ছাত্রছাত্রী সময়মতো ক্লাস করতে সমস্যায় পড়ছে।হাজার হাজার কর্মজীবি ও ছাত্রছাত্রী রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।অসহনীয় দুর্ভোগে পড়ছে রাস্তার যাত্রীগণ।দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে একটা গণপরিবহন আসলে সেখানে উঠতে একধরনের যুদ্ধ করে উঠতে হয়।ফলে দুর্ঘটনায় পড়তে হয় যাত্রীদের।আর অফিস ও ক্লাস টাইম মূল্যবান সময় রাস্তায় পার করতে হয় যাত্রীদের।তাহলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের রাস্তার নিরাপত্তার জন্য গড়ে তোলা আন্দোলনের এ কী ফল? তারা কী এজন্যে আন্দোলন এবং মামলা হামলার শিকার হয়েছিল।রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি তখন যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল সেটার ফল কী এরকমই? তারা ঘরে ফিরে গেল, অনেকেই জেল খাটল, মামলায় আসামী হলো সবকিছুই ছিলো রাস্তার শৃংখলা ও নিরাপত্তার জন্য।এটা ছিলো সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং সামাজিক একটি আন্দোলন।নিরাপত্তার জন্য মানুষের ভোগান্তি প্রতিরোধেই এ আন্দোলন ছিলো।দেখা গেল আজকে যারা জনগণের জন্য আন্দোলনে নেমে ছিলো কথা বলছিলো নানাভাবে আজকে তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে।মামলা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একটি সামাজিক আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করে ছাত্র সমাজের মনোবল সাহস ও চেতনাকে ধ্বংস করা হচ্ছে।তাদের সুপ্ত প্রতিভা দায়িত্বনূভুতি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চিন্তা চেতনা থেকে তাদের উল্টো মানসিক চাপের মধ্যে ফেলা হচ্ছে।এ ধরনের মন মানসিকতা সমাজ রাষ্ট্র রাজনীতির জন্য ভবিষৎ কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে বলে  মনে হয় না।এ ছাত্র আন্দোলনকে যারা সমর্থন করেছে সাপোর্ট দিয়েছে দেখা যাচ্ছে তলে তলে তাদেরকেও বিভিন্ন ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে হযরানি করা হচ্ছে।বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি আমার জানা মতে একটি সামাজিক সংগঠন বৈ আর কিছু নয়।শুরু থেকেই এ সংগঠনকে আমি চিনি ও জানি।তারা সারাদেশে রাস্তার এক্সিডেন্ট ও শৃংখলা নিয়ে বিভিন্ন সময় জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রকে পরামর্শ দিযে থাকে।কী অপরাধ এ সংগঠনের মহাসচিব মোজম্মেল হক চৌধুরী করেছেন সেটা আমার মতো অনেকেরই বোধগম্য নয়।শুধুমাত্র এক্সিডেন্ট এবং রাস্তার ও পরিবহন সেক্টরের সমলোচনার কারণে আজকে তার বিরোদ্ধে মামলা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।পত্রিকার মাধ্যমে জানলাম প্রথমে তার বিরোদ্ধে চাদাঁবাজির মামলা করা হলো।মামলার বাঁদি তাকে চিনেও না কোনো দিন দেখেও নাই।এ বিষয় পত্রিকায় সংবাদ হওয়ার পর আবার সংবাদ হলো গত ফেব্রুয়ারী মাসে তার বিরোদ্ধে বিস্ফুরক আইনে মামলা করা হয়েছিল।একজন সামাজিক নেতাকে এভাবে নানামুখী হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে কন্ঠরোধ করার সংশ্লিষ্টদের কী বা স্বার্থ সেটাও বুঝতে অবাক হতে হচ্ছে।তিনি একজন সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে।জনগণের ভোগান্তির বিরোদ্ধে কথা বলতে গিয়ে এভাবে যদি স্বার্থান্বেষী মহলের রোষানলে পড়তে হয় তাহলে রাষ্ট্রের মানুষ কী সবাই বোবা হয়ে যাবে? এভাবে তো ইচ্ছে করে কেউ নিজেকে বোবা বানিয়ে রাখতে পারে না।যাদের চোখ কান পঞ্চ ইন্দ্রিয় আছে তারা বোবার সঙ্গে বাস করতে পারে না।আর ইচ্ছে করে শক্তি প্রয়োগ করে কাউকে স্থায়ীভাবে বোবা বানিয়ে রাখা যায় না।সমাজ যদি বোবা হয়ে যায় সে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ধ্বংস অনিবার্য্।আমরা এ ধরনের অনিবার্য্ রাষ্ট্র ও সমাজ চাই না।আমরা চাই যে সমাজে মানুষ মানুষের মতো অধিকার নিয়ে সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বাচঁতে পারে সে রকম একটি রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা।কথা বলার বাক স্বাধীনতা অন্যায় অত্যাচার বিরোধি সংগ্রাম আন্দোলনের নামেই হচ্ছে সমাজ।সমাজ নামক এ চত্রছায়ায় কোনো অবস্থায় সামাজিক আন্দোলন কর্মসূচী প্রতিরোধ করা অথবা কন্ঠ স্তব্ধ করা কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্যতা পায় না।এভাবে কেউ রাষ্ট্র চালাতে অথবা ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইলে তাও দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব হয় না।জনগণের অধিকার প্রতিষ্টা, তাদের আশংকামুক্ত জীবন পরিচালনায় রাষ্ট্রকে স্বাধীনভাবে নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে অবশ্যই আন্তরিক হওয়া চাই।



লেখক:

মাহমুদুল হক আনসারী

প্রাবন্ধিক ও গবেষক

17.09.2018 | 05:29 PM | সর্বমোট ২১১ বার পঠিত

গণপরিবহনে শৃংখলা ও জনভোগান্তি" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

প্রিয়া সাহার অভিযোগে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তাতে বিভ্রান্ত না হওয়ার...... বিস্তারিত

21.07.2019 | 08:20 PM


রাজধানী

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ শুরু

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ২৭ শর্ত মেনে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশের আয়োজন...... বিস্তারিত

20.07.2019 | 05:34 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

বিনোদন

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ