মাহমুদুল হক আনসারী

শিশু সুরক্ষায় সামাজিক দায়িত্ব

শিশুবান্ধব পরিবেশের জন্য সামাজিক দায়িত্ব কর্তব্য বলার অপেক্ষা রাখে না।একজন শিশু সে অবুঝ ভালো মন্দ তার বুঝবার ক্ষমতা নেই।শিশু থেকে কিশোর যুবক হিসেবে তার জীবনের পরিধি ঘটে।পারিবারিক সামাজিক শিক্ষায় তার বেড়ে ওঠা দেখা যায়।বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক পারিপার্শিক প্রেক্ষাপটে শিশুর সুরক্ষা নিরাপত্তা শিক্ষা স্বাস্থ্য শিশুবান্ধব হিসেবে এখনো আমরা গড়ে তুলতে পারি নি।শিশুরা পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনো তাদের অধিকার সুরক্ষায় প্রতিষ্টিত হয় নি।বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশি সংখ্যক পরিবারে শিশুর অধিকার তার প্রতি স্নেহ মায়া মমতা নিশ্চিত করা যায় না।একজন শিশুর পারিবারিক সামাজিক ধর্মীয়ভাবে তাকে যেভাবে শিক্ষা দীক্ষায় নৈতিকতায় গড়ে তোলার কথা ছিলো তা কিন্তু পরিবার ও সমাজ করতে পারে নি।অর্থনৈতিক সামাজিক নানা সমস্যায় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা থাকলেও আর্থসামাজিক জটিলতায় তা করা সম্ভব হয় নি।ফলে শিশুরা পরিবার বিদ্যালয় সামাজিকভাবে অবহেলায় বেড়ে উঠছে।শিক্ষায় শিশুদের জন্য যেভাবে উন্নতি অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিলো সমাজ তা দেখছে না।স্কুলে কোমলমতি শিশুদের জন্য শিক্ষার নামে যেসব পাঠ্য তালিকা চেপে দেয়া হচ্ছে তা শিশুবান্ধব বলে মনে হয় না।শিশু বিজ্ঞানী মনোবিজ্ঞানী বিশ্লেষকগণ এসব শিক্ষার কঠোর ভাবে সমালোচনা করছে।একজন শিশু যে পরিমাণে সিলেবাস বই পুস্তক তার শক্তির মধ্যে দেয়ার কথা ছিলো এর চেয়েও অনেকগুণ বেশি শিক্ষার নামে তাকে চাপ দেয়া হচ্ছে।এক এক বিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন নীতিতে শিশুর সিলেবাস তৈরী ও বাস্তবায়ন করছে। মাতৃভাষা বিদেশী ভাষা ধর্মীয় শিক্ষা আরো কত প্রকারের নানা রঙের বই দিয়ে তাদের শিক্ষার সুপ্ত প্রতিভাকে বিঘ্নিত করা হচ্ছে।ক্লাস পরবর্তীতে কোচিং এসব মিলে একজন শিশু দিনরাত বিশ্রামহীনভাবে শিক্ষার নামে ব্যাস্ততার মধ্যে সময় কাটায়।অভিবাবক পরিবার সমাজ শিক্ষার নামে শিশুদেরকে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তার প্রতিভা বিকাশ বিরোধী অন্যায় চাপে রেখেছে।এ গেল শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর চাপ প্রসঙ্গে।যাদের শিক্ষা গ্রহণের মতো পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় সুযোগ নেই এমন ধরনের হাজার হাজার শিশুর বাংলাদেশের অজ গাঁ গ্রাম এবং শহরেও প্রচুর ভাবে পথশিশুদের দেখতে পাওয়া যায়।পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে না পেরে তাদেরকে অনিরাপদ ঝুকিঁপূর্ণ কায়িক শ্রম ‍ও কাজের ব্যবহার করা হয়।অনেক শিশু পরিবার ও ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়ে শ্রম কাজে জড়িয়ে পড়ে।রাষ্ট্রের শিশু মন্ত্রণালয়ের যে পরিমাণ তাদের জন্য কর্মসূচী আছে তা যথেস্ট নয়।তাদেরকে নিরাপদ জীবন আশ্রয় শিক্ষায় বড় করার যেভাবে রাষ্ট্রের কর্তব্য পালনের কথা ছিলো সেভাবে দায়িত্ব পালন হচ্ছে না।সামাজিকভাবে অনেকগুলো সেচ্ছাসেবী সংগঠন সারাদেশে শিশুদের জন্য কাজ করলেও সেখানেও সমাজ লাভবান হচ্ছে না।যেখানে তাদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান শিক্ষা আশ্রয় থাকার কথা ছিল সেখানেও তাদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের অনেক দুর্বিষহ সংবাদ দেখতে পাওয়া যায়।শিশুর সুরক্ষার নামে যেসব আশ্রয় প্রতিষ্টান গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে প্রতিদিন শিশুরা নানাভাবে নির্যাতন এবং জীবনহানির সম্মুখীন হচ্ছে।কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে তাদের ইচ্ছার বিরোদ্ধে তাদেরকে শিক্ষার নামে শক্তি প্রয়োগে জোর জবরদস্তি করে আটকিয়ে রাখা হচ্ছে।ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে এখনো কতিপয় শিক্ষা প্রতিষ্টানে বন্ধি রেখে শিক্ষা কার্য্ক্রম চালাচ্ছে।এসব প্রতিষ্টান প্রশাসন ও জাতীয় আন্তর্জাতিক কোনো প্রকারের শিশুদের গাইড অনুসরণ করে না।তাদের লেখাপড়া স্বাস্থ্য পরিবেশ কোনোটাই জাতীয় আন্তর্জাতিক আদর্শিক শিশু মানদন্ডে পড়ে না।হযবরল নিয়মনীতি ইচ্ছে মতো কার্য্ক্রম ও যার যার খুশিমতো শিশুদের কার্য্ক্রমগুলো পরিচালিত হচ্ছে।যেভাবে শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় বিধি বিধান রয়েছে সেভাবে শিশু নিকেতনগুলো পরিচালিত হচ্ছে না।এর জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র সমানভাবে দায়ি।আমাদের কথা অনেক হয় পরামর্শ সিদ্ধান্ত অনেক কিছু অনেক জায়গায় হচ্ছে।কিন্তু বাস্তবে কয়টি সিদ্ধান্ত কয়টি পরামর্শ আমরা বাস্তবায়ন করছি সেখানেই আমাদের কথা।আজকের শিশুরা নীতি নৈতিকতার বিষয়ে অনেক কিছু দেখছে এবং শুনছে।কিন্তু তারা নীতি ও নৈতিকতা আদর্শিক পরিবর্তন পরিবার ও সমাজে দেখছে না।অনেকসময় শিশুরা সমাজের নানা অসংগতি দেখে তা তারা সহ্য করতে না পেরে প্রতিবাদ করতেও পিছপা হচ্ছে না।কিন্তু তাদের প্রতিবাদকেও আমরা অনেকেই সহ্য করতে পারি না।ভালো মন্দ যা দেখছে তারা তা বলতে চেষ্টা করে সমাজের নিকট।কিন্তু সমাজ তা শুনতে চায় না।পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে কতিপয় মানুষ নানাভাবে সমাজকে কলুষিত করছে।দুর্নীতি মাদকের ব্যবহার বিপণন আশংকাজনক হারে বেড়ে চলছে।এসব শিশুদের মারাত্মকভাবে চিন্তা চেতনায় ক্ষতিগ্রস্ত করছে।নানা অভাব ও সম,স্যার কারণে অনেক শিশুকে শিশুশ্রম বিনিয়োগ করে জীবন নির্বাহ করতে হয়।সকাল বিকেল রাস্তায় বের হলে ধেকা যায় অসংখ্য শিশু বিভিন্ন প্রতিষ্টানে অথবা পরিবহণ রেস্টুরেন্ট হোটেল বিভিন্ন কলকারখানা ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করছে।তাদের আয়ের মাধ্যমে তার এবং পরিবারের খরচ নির্বাহ হয়।অনেকগুলো অনাথ ও অভাবী পরিবারে রোজগারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।ফলে শিশুরাই ওইসব পরিবারের উপার্জনকারী।বাধ্য হয়ে শিশুরাই সে পরিবারের চাপে শ্রম দিতে হয়।অমানবিকভাবে তাদের এ ধরনের শ্রম দেখলে কোনো সুস্থ সুপ্ত পরিচ্ছন্ন মানুষ চোখবুজে থাকতে পারে না।অবশ্যই বিশাল এসব শিশুদের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে তাদের জন্য প্রণীত আইন কানুন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে হবে।আমরা চাই শিশুদের জন্য আগামী দিন যেনো আরো সুন্দর ও নিরাপদ হয়।শিক্ষার নামে তারা যেনো কঠিন চাপের সম্মুখীন না হয়।হাসি খুশিতে হয় যেনো তাদের শিক্ষা এবং বেড়ে উঠা।শিক্ষার নামে সমস্ত চাপ জবরদস্তি বন্ধ করতে হবে।শিশুশ্রমকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা রাষ্ট্রকে করতে হবে।ঘর থেকে সবক্ষেত্রে শিশুর জীবন যেনো নিরাপদ ও আশ্রয়পূর্ণ হয় সেভাবেই সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।সবধরনের মাদকাসক্তি অপরাধ থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে।সমস্ত অন্যায় অপকর্ম দুর্নীতি ঘুষ এ ধরনের গর্হিত কোনো কাজ যেনো তাদের সম্মুখে করা না হয়।অন্যায় অবৈধ লেনদেন ও উপার্জনের ইচ্ছা ও আগ্রহ থেকে তাদের চিন্তা চেতনাকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।আসুন আগামী দিনের সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যাশায় শিশুবান্ধব সমাজ প্রতিষ্টায় এগিয়ে আসি।


লেখক:

মাহমুদুল হক আনসারী

প্রাবন্ধিক ও গবেষক

17.09.2018 | 05:23 PM | সর্বমোট ১৭১ বার পঠিত

শিশু সুরক্ষায় সামাজিক দায়িত্ব" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

প্রিয়া সাহার অভিযোগে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তাতে বিভ্রান্ত না হওয়ার...... বিস্তারিত

21.07.2019 | 08:20 PM


রাজধানী

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ শুরু

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ২৭ শর্ত মেনে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশের আয়োজন...... বিস্তারিত

20.07.2019 | 05:34 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

বিনোদন

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ