শাকিল মুরাদ, বিভাগীয় প্রধান ,শেরপুর

হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুর সীমান্ত এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

শাকিল মুরাদ: আধুনিকতার স্পর্শ আর কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুর সীমান্তের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। আজ যেই জিনিসটি পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করছে, কাল তার স্থান হচ্ছে ইতিহাসে অথবা যাদুঘরে। ধ্বংস আর সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ মানুষের রুচি বোধের পরিবর্তন। এ নিয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়সহ অনেক সাহিত্যিক। অথচ সীমান্ত অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামেই দেখা যেত নজর কাড়া মাটির একতলা কিংবা দোতলা বাড়ি। শুধু মাটির বাড়িই নয়, ছিল ধান-চাল রাখার জন্য মাটির তৈরী গোলা ঘর ও কুঠি। তবে দিন দিন প্রাকৃতিক দূর্যোগ পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে এসব আজ হারাতে বসেছে।

সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাটির তৈরির ঘর অত্যন্ত আরামদায়ক। দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও একসময় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। এখন মাটির ঘর ভেঙ্গে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটের তৈরি পাকা দালান। মাটির ঘরগুলো গরমে শীতল আর শীতের উষ্ণ। বর্তমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মতো। জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা একসময় মাটির ঘরের গ্রাম হিসেবে খ্যাত ছিল। কিন্তু এখন আর তা নেই। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব এখন হারিয়ে যাচ্ছে।

ঝিনাইগাতীর বাকাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা পঙ্কজ ও শ্রীবরদী মেঘাদল এলাকার রহিয়ান ম্রং বলেন, সাধারণত এটেল বা আঠালো মাটি দিয়ে পানির সঙ্গে মিশিয়ে কাদায় পরিণত করা হয়। সেই কাদা ২০-৩০ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরী করা হয়। এ দেয়াল তৈরি করতে বেশ সময় লাগে। কারণ একসাথে বেশি উচুঁ করে তৈরি করা যায় না। প্রতিবার এক দেড় ফুট উচুঁ করে দেয়াল তৈরি করা হয়। কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার উপর একই উচ্চতার দেয়াল তৈরি করা হয়। এভাবে দেয়াল ১০-১২ ফুট উচুঁ হলে বেশ কিছুদিন ধরে রোদে শুকানো হয়। তারপর এই দেয়ালের ওপর বাঁশের চাল তৈরি করে খড় বা টিন দিয়ে ছাউনি দেয়া হয়। একটি মাটির ঘর তৈরি করতে প্রায় ৩-৪ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। মাটির ঘর শীত গরম উভয় মৌসুমে বেশ আরামদায়ক। তবে বন্যা, ভূমিকম্প বা প্রবল ঝড় না হলে এসব ঘর শতাধিক বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। অনেক সময় মাটির ঘর দোতলা পর্যন্ত করা হয়। এ সমস্ত ঘর বেশি বড় হয়না। গৃহিণীরা তাদের নরম হাতের কোমল ছোঁয়ায় নিপুণভাবে কাঁদা দিয়ে লেপে মাটির ঘরের দেয়ালগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

এখন আর সেই মাটির ঘড় চোখে পড়ে না বললেই চলে। তবে এখনো বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকেই দু’একটা মাটির ঘর টিকিয়ে রেখেছে। বর্তমানে মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিয়েছে ইট, সিমেন্ট, বালি ও রডের তৈরি পাকা ঘরগুলো। মাটির ঘরগুলো বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দূযোর্গে বিশেষ তি সাধন হয় বলেই মানুষ ইট সিমেন্টের ঘর-বাড়ি নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতি বছর মাটির ঘরে খরচ না করে একবারে বেশি খরচ হলেও পাকা ঘর-বাড়িই নির্মান করছেন। বর্তমানে মাটির ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্তির কাছাকাছি। হয়ত সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন মাটির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে, আগামী প্রজন্মের মানুষের কাছে মাটির ঘর রূপকথার গল্পের মত মনে হবে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মাটির ঘরের গল্প, কবিতার ছন্দে বা সাহিত্যর পাতায় বা যাদুঘরে দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে শুধু গল্প কাহিনী রয়ে যাবে।

01.10.2018 | 10:03 PM | সর্বমোট ১০৬ বার পঠিত

হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুর সীমান্ত এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর" data-width="100%" data-numposts="5" data-colorscheme="light">

জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত প্রতিবেদন একপেশে

বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদন একপেশে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে...... বিস্তারিত

19.03.2019 | 10:35 PM


রাজধানী

সুপ্রভাতের সেই বাসের নিবন্ধন সাময়িক বাতিল

কুড়িল বিশ্বরোডে বাসচাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটির (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) নিবন্ধন সাময়িকভাবে বাতিল করেছে...... বিস্তারিত

19.03.2019 | 10:24 PM

চট্টগ্রাম

চকবাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই-চট্টগ্রাম  যৌথভাবে  নগরীর চকবাজারে এক ভ্রাম্যমান আদালত  পরিচালনা করেন। ২৪ অক্টোবর বুধবার দুপুরে ...... বিস্তারিত

24.10.2018 | 04:33 PM

ফেইসবুকে নিউজ ৭১ অনলাইন

ধর্ম

সত্যনিষ্ঠ আলেম না চিনলে দুনিয়া ও আখেরাত দুটোই হারাতে হবে

অনলাইন ডেস্ক :রসুলাল্লাহর প্রসিদ্ধ সাহাবী ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, “যে ব্যক্তি অধিক হাদিস জানে সে ব্যক্তি আলেম নয়। বরং যার...... বিস্তারিত

26.10.2018 | 02:55 AM

বিনোদন

শাড়ির আঁচল খসে পড়ায় কুরুচিকর আক্রমণের মুখে মুনমুন সেন

ভারতের রাজনীতির ময়দানে ফের কুরুচিকর ও অশ্লীল আক্রমণ। ফের বিজেপির টার্গেট পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর...... বিস্তারিত

19.03.2019 | 10:36 PM

সর্বশেষ সংবাদ

সব পোস্ট

English News

সম্পাদকীয়

বিশেষ প্রতিবেদন

মানুষ মানুষের জন্য

আমরা শোকাহত

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

অন্যরকম

ভিডিওতে ৭১এর মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস

ভিডিও সংবাদ