বাংলাদেশি দালালদের বিরুদ্ধে নামছে ভিয়েতনাম

প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ২৪, ২০২০

ভিয়েতনামের বড় বড় কোম্পানিতে কাজ দেয়ার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালালরা৷ এরকম ১৭ জন প্রতারিত সোমবার হ্যানয়ে বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন৷ভিয়েতনাম সরকার বাংলাদেশি দালালদের ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে৷

দেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে সোমবার ভিয়েতনামের ভুং তাও থেকে ১৭ জন শ্রমিক হ্যানয়ে পৌঁছে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন৷ ভুং তাও থেকে হ্যানয়ের দূরত্ব এক হাজার ৬৭৭ কি.মি.৷ তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের রাস্তা থেকে নিয়ে হ্যানয়ের একটি হোটেলে রাখা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের একজন জানিয়েছে৷

ভিয়েতনাম পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় হো চি মিন, নি ডুওং ও ভুং তাও শহরের পুলিশকে বাংলাদেশি দালালদের ব্যাপারে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে৷ তাদের বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে৷

ওই ১৭ বাংলাদেশি নাগরিককে ভুং তাও শহরে ফিরিয়ে নেয়া, তাদের কাজ দেয়া বা ফ্লাইট চালু হলে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতেও ভিসা স্পন্সরকারীদের নির্দেশ দিয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ৷

১৭ জন বাংলাদেশির একজন রায়হান উদ্দিন জানান, তাদের সাথে বাংলাদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠক হয়েছে৷ বৈঠকের পর তাদের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ তারা এখন তাদের চাকরি দেয়ার কথা বলছে৷ কিন্তু ১৭ জন বাংলাদেশি আর চাকরি করতে চান না৷ তারা দেশে ফেরত আসতে চান৷দালাল চক্র

রায়হান উদ্দিনের বাড়ি বাংলাদেশের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুরে৷ দালালকে সাড়ে চার লাখ টাকা দিয়ে সাত মাস আগে ভিয়েতনাম যান তিনি৷ তাকে ভুং তাও-ও হুন্দাই কোম্পানির একটি শিপইয়ার্ডে কাজ দেয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু গত সাত মাসে তাকে কোনো কাজ দেয়া হয়নি৷ তারা ১৭ জনই একসঙ্গে ভিয়েতনাম যান৷ তার দাবি, তাদের সবার বিএমইটির অনুমোদন আছে৷

রায়হান বলেন, ‘‘সাত মাসে চাকরি তো দেয়ই নাই, উপরন্তু আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আরো এক হাজার ১০০ ডলার করে জোর করে নিয়েছে৷’’

তিনি জানান, বাংলাদেশের আতিক, সাইফুল ও সোবহানসহ আরো কয়েকজন মিলে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে ভিয়েতনামে৷ তারা ভিয়েতনামের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জাল কাগজপত্র তৈরি করে বাংলাদেশিদের নিয়ে আসে৷ প্রত্যেকের কাছ থেকে চার-পাঁচ লাখ টাকা নেয়৷ কিন্তু বাস্তবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্বই নেই৷ চাকরি তো দেয়ই না, উল্টো প্রতারাণা করে আরো টাকা আদায় করে, নির্যাতন করে৷ বাংলাদেশেও তাদের একটি চক্র আছে৷ তারা লোক সংগ্রহ করে৷

‘‘সাত মাস ধরে কোনো প্রতিকার না পেয়ে আমরা সোমবার ভুং তাও থেকে হ্যানয় এসে দূতাবাসের সামনে অবস্থান নেই,’’ জানান রায়হান উদ্দিন৷বাংলাদেশ দূতাবাস যা করছে

ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ দাবি করেন, তারা প্রতারিত বাংলাদেশিদের ব্যাপারে নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন৷ ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভিয়েতনামের এবং বাংলাদেশের সক্রিয় দালালদের ব্যাপারে তথ্য দেয়া হয়েছে৷ সেই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব এরই মধ্যে তিনজন দালালকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করেছে৷

তিনি বলেন, ‘‘আমরা ভিয়েতনাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানোর পরই প্রতারিত বাংলাদেশিদের ব্যাপারে তারা সক্রিয় হয়েছে৷ আমাদের অনুরোধেই ওই ১৭ জনকে যারা নিয়ে এসেছেন, তারা হোটেলে নিয়ে গেছেন৷’’

তার জানান, দূতবাসের পক্ষ থেকে তাদের এখানে চাকরি দেয়া বা দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে নিয়োগ কর্তাদের রাজি করাতে ভিয়েতনাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে৷ তারা সে চেষ্টা করছেন৷ তারা চাকরি দিতেও রাজি হয়েছেন৷ কিন্তু এরা এখন চাকরি না করে দেশে ফেরত যেতে চাইছেন৷

ভিয়েতনামে সক্রিয় বাংলাদেশি প্রতারক চক্রের ব্যাপারে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা-ও তাদের জানানো হচ্ছে বলে জানান তিনি৷ ভিয়েতনামের আইনেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷DW