করোনায়

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪২ শনাক্ত ২৭৪৪

প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ , জুলাই ২২, ২০২০

মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়লেও প্রতিদিনের হারে তা কমেছে। বাংলাদেশের অবস্থাও এখন পর্যন্ত আগের মতই। দিন দিন ভয়াবহ রূপ লাভ করছে করোনা। 

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুই হাজার ৭৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে নতুন করে দুই হাজার ৭৪৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে সর্বমোট দুই লাখ ১৩ হাজার ২৫৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হলেন।

করোনাভাইরাস বিষয়ে বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

দেশের মোট ৮০টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১১ হাজার ৯৭৬টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৫০টি নমুনা। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৬০৯টি।

তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরো এক হাজার ৮০৫ জন। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ২০২ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

গেল ২৪ ঘণ্টা আক্রান্ত শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং এপর্যন্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তবে শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৯ শতাংশ।

বরাবরের মতো বুলেটিনে সবাইকে, বিশেষ করে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান ডা. নাসিমা। তিনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শও দেন।

এদিকে বিশ্বে বেড়েই চলেছে করোনার ভয়াবহতা। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বের প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে, সুস্থতা লাভ করেছেন ২ লাখের বেশি ভুক্তভোগী।

বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারের নিয়মিত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত একদিনে বিশ্বের ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩ জনের দেহে মিলেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রাণ ঝরেছে আরও ৫ হাজার ৬৭৮ জনের। এতে মৃতের সংখ্যা ৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৪ জনে ঠেকেছে।

তবে, আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায়ও ২ লাখ ৩ হজারের বেশি ভুক্তভোগী সুস্থ হয়েছে। এতে করে মোট বেঁচে ফেরার সংখ্যা ৯১ লাখ ছাড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।