থামানো যাচ্ছে না স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি

প্রকাশিত: ১১:১২ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ২২, ২০২০

কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি। করোনা মহামারিতে দেশে পিসিআর টেস্ট কিট সরবরাহ নিয়েও চলছে চরম নৈরাজ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগার সিএমএসডি’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট বাজার মূল্যের চারগুণ দামে কিট সরবরাহ করে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কিটের দাম ৫১০ টাকা হলেও তা কেনা হয়েছে ২৩০০ টাকা দরে। আরটিভির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন ভয়াবহ তথ্য।
এই খাতের ঠিকাদারদের মাফিয়া মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। জনশ্রুতি আছে, তাকে কাজ না দেয়ায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে পরিচালককে পদ ছাড়তে হয়েছে।
বর্তমান পরিচালক অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান দায়িত্ব নেয়ার দুসপ্তাহের মধ্যেই মিঠু সিন্ডিকেটের প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৩৪ কোটি টাকার পিসিআর টেস্ট কিট কেনার কাজ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মিঠুর মালিকানাধীন মেসার্স জেরিন এন্টারপ্রাইজকে ২৩০০ টাকা দরে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস স্যানশিওর বায়োটেক ব্র্যান্ডের টেস্ট কিটের কার্যাদেশ দেয় সিএমএসডি। একই দরে ওভারসিজ মার্কেটিং করপোরেশন-ওএমসিকে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস, মাইশা রাও টেলসেট জেভিকে ৫০ হাজার আর স্টার্লিং মাল্টি টেকনোলজিস লিমিটেডকে ২৫ হাজার পিস কিটের কার্যাদেশ দেয়া হয়। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে এই কিট বিক্রি হচ্ছে ৫১০ টাকায়। অর্থাৎ চারটি কার্যাদেশে বাজার মূল্যের চেয়ে প্রায় ৪০০ শতাংশ বেশি দাম ধরা হয়েছে।
করোনার শুরু থেকে যে সব ঠিকাদার কিট সরবরাহ করেছে তারা এখনো বিল না পেলেও মিঠু সিন্ডিকেটকে কার্যাদেশ দেয়া বিল উত্তোলনের জন্য মন্ত্রণালয়কে তাগাদার চিঠি দিয়েছেন সিএমএসডির পরিচালক।
বার বার চেষ্টা করেও এই বিষয়ে সিএমএসডির পরিচালকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফটকে বলা হয় ভেতরে কেউ নেই। আর টেলিফোনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যোগাযোগ করা হলে পরিচালকের সহকারী বারবারই মিটিংয়ের দোহাই দেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্রয় ও সংগ্রহ বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল্লাহিল আজম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, মন্ত্রী বা সচিব জানতে পারেন। তবে তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, অধিদপ্তর চাহিদা পত্র দেয় সিএমএসডিকে। তারা কার মাধ্যমে ক্রয় করবে তা তাদের বিষয়।
টিআইবি বলছে, দুর্যোগকে জিম্মি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন টাকা ছাড় করাতে না পারে, সে জন্য সরকারকে সতর্ক হতে হবে।##আরটিভি নিউজ