বিল গেটস, ওবামাদের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাকড

প্রকাশিত: ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ১৬, ২০২০

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিট কয়েন দাবি করল হ্যাকাররা। যা ঘিরে তোলপাড় নেট দুনিয়া।’আপনি আমায় এক হাজার ডলার পাঠান, আমি আপনাকে দুই হাজার ডলার ফেরত দেব।’ টুইট করেছেন বিল গেটস। শুধু বিল গেটস নয়, অ্যামেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন– সকলের ভেরিফায়েড টুইটার হ্যান্ডেল থেকেই এমন মেসেজ ছড়িয়েছে নেট দুনিয়ায়। যা নিয়ে রীতিমতো সাড়া পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। পরে টুইটার জানিয়েছে, বিশ্বের বহু হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, সে কারণেই এমন মেসেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় হ্যাকিং অত্যন্ত পরিচিত শব্দ। এর আগে হ্যাকাররা বহু বড় বড় ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টুইটার হ্যান্ডেল হ্যাক করে ক্রিপ্টো কারেন্সির বিনিয়োগের এমন আবেদন যথেষ্ট অভিনব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। বিল গেটস, ইলন মাস্ক, সিলিকন ভ্যালির জায়েন্ট সংস্থা উবার, অ্যাপেল সকলেরই টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়। বারাক ওবামা, জো বাইডেনের মতো রাজনীতিবিদরাও বাদ যাননি। সকলের টুইচার হ্যান্ডেল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়েছে, আধঘণ্টার মধ্যে যদি বিট কয়েন বা ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে তাঁদের এক হাজার ডলার দেওয়া হয়, তা হলে দ্রুত তা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। বিট কয়েন বা ক্রিপ্টো কারেন্সি হলো এক ধরনের ভার্চুয়াল কয়েন। এর মাধ্যমেই ভার্চুয়াল জগতে টাকার আদানপ্রদান করা যায়। বিশ্বের অনেক দেশেই এই ধরনের কারেন্সি নিষিদ্ধ। বলা হয়, এ ধরনের আদানপ্রদান গোপন রাখার জন্য পুরো বিষয়টি এনক্রিপ্ট করে রাখা হয়। অনলাইন জুয়াতেও এই ধরনের কারেন্সির বিপুল ব্যবহার আছে।

কিন্তু বুধবার নেট দুনিয়া খানিক আশ্চর্যই হয়। কারণ, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এবং কয়েকটি সংস্থা ওই কারেন্সির মাধ্যমে অর্থ দাবি করেন। অনেকেই মনে করেন এটা একটা নতুন খেলা। তবে বিষয়টি ছড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ কেউ টুইট করে জানিয়ে দেন, এটা একটা স্ক্যাম। যাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ধরনের পোস্ট হয়েছে, সেগুলি হ্যাক করা হয়েছে। কেউ যেন ফাঁদে পা না দেন।টুইটারও পোস্ট করে জানিয়ে দেয়, বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। টুইটার জানিয়েছে, কী ভাবে এ ঘটনা ঘটল, কারা এমন কাজ করল তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির টুইটার হ্যান্ডেল সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টুইটার জানিয়েছে, তাঁরা এখন টুইট করতে পারবেন না, পাসওয়ার্ডও বদলাতে পারবেন না। সকলের অ্যাকাউন্টই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বোঝার চেষ্টা হচ্ছে, কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল।সামাজিক মাধ্যমে টুইটার এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনীতিবিদ থেকে সেলিব্রিটি– সকলেই টুইট করে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট তৈরির সুযোগ দেয় টুইটার। অর্থাৎ, ওই অ্যাকাউন্টটি যে ভুয়ো নয়, তা পরীক্ষা করে দেখে নিয়েছে টুইটার। সেই ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এমন ঘটনা কারা ঘটাল, তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।(রয়টার্স)