সাহেদের দম্ভোক্তি, অপরাধ প্রমাণ হলে যা হতে পারে

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ , জুলাই ১৫, ২০২০

গ্রেপ্তারের পর রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। আজ বুধবার সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় আনার পর সাহেদকে প্রথমে র‍্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সেখানে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাহেদ অনেকটা নির্ভার ছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকবার দম্ভোক্তি করেন তিনি।

র‍্যাব কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে সাহেদ বলেন, ‘আমাকে ছয় মাসের বেশি সময় আটকে রাখা যাবে না।’ নিজের পত্রিকার লাইসেন্স আছে উল্লেখ করে যেসব সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদকর্মীরা তার ছবি তুলছে এবং সংবাদ প্রকাশ করছে তাদেরও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাহেদ একজন ঠান্ডা মাথার প্রতারক। তিনি আগেও জেলে গেছেন। ফলে আইনি বিষয়গুলো তার ভালোভাবেই জানা। সে নানা সময় নানা কথা বলছে। বিভ্রান্তিকর তথ্যও দিচ্ছে।’

এদিকে রিজেন্ট গ্রুপের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তি ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে সাহেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা করবে দুদক, সে ক্ষেত্রে সরকারী কর্মকর্তারাও আসামী হতে পারেন। সংশ্লিষ্টদের কাউকে ছাড় দেয় হবে না- একুশে টেলিভিশনকে এ কথা জানান, দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তিনি আরো জানান, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হলে আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনে ১০ বছরের সাজার কথা বলা আছে।  অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ করলে দন্ডবিধিতে যাবজ্জীবন সাজার কথাও আছে।

প্রসঙ্গত, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে র‌্যাব। রাজধানীর উত্তরায় সাহেদের দুই নম্বর অফিসে এই অভিযান চালানো হয়। এর আগে ১২টার দিকে সাহেদকে নিয়ে সেখানে যায় র‌্যাব। পরে দেড়টার দিকে তাকে র‌্যাবের সদর দপ্তরে আনা হয়।

জানা গেছে, সাহেদ করিমকে ভারতে পার করে দিতে ৫০ লাখ টাকায় রফা করেছিলেন আশ্রয়দাতা আল ফেরদৌস আলফা। এজন্য নিজের মাছের ঘেরে সুসজ্জিত এসি ঘরে চার দিন সাহেদকে রেখেছিলেন তিনি। এর মধ্যেই আলফা ব্যবস্থা করেছেন নৌকা ও মাঝি।

পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাবের হাতে সাহেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সাহেদ করিম বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, এই প্রতারকের কারণে দেশের অবস্থান নষ্ট হয়েছে। সে সবসময় প্রতারণা করার ফাঁকফোকর খুঁজতো। আর প্রচারণার অংশ হিসেবেই সে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি উঠাতো। এসব দিয়েই তার প্রতারণা কাজকে আরও সহজ করত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যখন করোনা হাসপাতাল কেউ দিতে চাচ্ছিল না, তখন সাহেদ নিজ থেকে এগিয়ে এসেছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল যে প্রতারণা সেটা তো সেই মুহূর্তে বোঝা যায়নি। আমি নিজেও ৪/৫ জন রোগীকে তার হাসপাতলে ভর্তি করিয়েছি। কিন্তু এই সবকিছুর মূলে তার উদ্দেশ্য ছিল প্রতারণা সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘টেলিভিশন টকশোতে ও সে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিল। এটাও ছিল তার প্রতারণার অংশ। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের চেয়ে অনেক দক্ষ। আমরা তার কোন প্রতারণাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে দেইনি। আমরা তাকে ধরে ফেলেছি।’

অপরদিকে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ নিজ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। বুধবার (১৬ জুলাই) বেলা সোয়া ১২টায় তিনি সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নানের কাছে কাগজ জমা দেন।

স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান জানান, মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিখিত জবাব দিয়েছেন, আমরা সেটি পেয়েছি। সেই জবাবের সঙ্গে তিনি অনেক কাগজ সংযুক্তি দিয়েছেন। সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। আমরা দেখবো, তার কাছে যা জানতে চেয়েছি সেগুলো তার জবাবে আছে কিনা। জবাবে সন্তুষ্ট হলেও আমরা লিখিতভাবে জানাবো এবং সন্তুষ্ট না হলে ব্যবস্থা নেবো তা আপনারা জানবেন।