সৌরবিদ্যুৎ অপচয় বন্ধে বাংলাদেশি স্টার্ট আপ

প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ , জুলাই ৫, ২০২০

বাংলাদেশের অনেক গ্রামেই এখন সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে৷ কোনো বাড়িতেই যাতে সেই বিদ্যুতের অপচয় না হয়, সে প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশের একটি স্টার্ট আপ৷ এজন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু পুরষ্কারও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি৷২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে সোলশেয়ার৷ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, সোলার প্যানেল থেকে বিভিন্ন বাড়িতে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, তা একটি ব্যাটারি স্টোরেজে জমা হয়৷ কিন্তু একবার সেই ব্যাটারির ধারণ ক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেলে সোলার প্যানেলের বাকি বিদ্যুৎ আর জমা হয় না৷ এর ফলে এক বিলিয়ন ডলার মূল্যেরও বেশি সৌরবিদ্যুৎ নষ্ট হয়৷

জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের বাইরে থাকা বাড়িগুলোতেই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে৷ এক্ষেত্রে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ৷ দেশের প্রায় ৫০ লাখ বাড়িতে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা৷

সোলশেয়ারের প্রকল্প পরিচালক সালমা ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা এমন এক ডিভাইস তৈরি করেছি যাতে বাড়তি বিদ্যুৎ জমা রাখা যাবে এবং এটা বিক্রি করে মানুষ অর্থও উপার্জন করতে পারবে৷’’

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে এই ডিভাইস সংযুক্ত করলে বাড়তি বিদ্যুৎ একটি মাইক্রোগ্রিডে সরবরাহ করা যাবে৷ অন্য সোলশেয়ার ব্যবহারকারীরা এই গ্রিড থেকে চাইলে বাড়তি বিদ্যুৎ কিনতেও পারবেন৷ ফলে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অপচয় কমানো সম্ভব হবে৷

সালমা বলেন, ‘‘কেউ যদি ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয় মোডে রাখেন, ব্যাটারি পূর্ণ হওয়ার পর বাড়তি বিদ্যুৎ নিজে নিজেই বিক্রি হতে থাকবে৷’’যেসব পরিবারের সোলার প্যানেল কেনার টাকা নেই, তারা এই ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে প্যানেল স্থাপন না করেই বিদ্যুৎ কিনতে পারবেন৷ ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অ্যাশডেন জলবায়ু সুরক্ষায় উদ্ভাবনী সমাধানের জন্য সোলশেয়ারকে পুরষ্কার দিয়েছে৷

আগামী বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের৷ সোলশেয়ারের ডিভাইসটি এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে৷ বাংলাদেশের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দীন এমন প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, কেবল বাড়ির ছাদে নয়, জলে ভাসতে পারে, এমন সোলার প্য়ানেল নিয়েও চিন্তাভাবনা করছে সরকার৷

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলোর মূল জ্বালানি প্রাকৃতিক গ্যাস৷ কিন্তু রিজার্ভ ধীরে ধীরে কমে আসায় নতুন কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে দেশটি৷ তবে কয়লার মারাত্মক দূষণের আশঙ্কায় এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন দেশটির পরিবেশবাদীরা৷

এডিকে/এসিবি (রয়টার্স)