করোনা সংক্রমণের মধ্যেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ , জুলাই ২, ২০২০

বাংলাদেশের ভরা বর্ষায় গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।এর ফলে দেশের মধ্যাঞ্চলের জেলা টাঙ্গাইল,রাজবাড়ী ও ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে- এমনটিই আশংকা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারী এ সংস্থাটি জানিয়েছে,গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে,যা আগামী ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে, ব্রক্ষ্মপুত্র-যমুনা নদ নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে,যা,আগামী ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে  আগামী ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ ছাড়া, সুরমা ব্যতীত আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত এ অববাহিকার প্রধান নদীর পানি  হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে ছাতক ২৬৬ মিলিমিটার,সিলেট ১৪০ মিলিমিটার,লাল্লাখাল ১১৮ মিলিমিটার,ডালিয় ১১১ মিলিমিটার,সুনামগঞ্জ ১০৬ মিলিমিটার,কানাইঘাট ১০৫ মিলিমিটার,শেরপুর ও সিলেট ১০৫ মিলিমিটার এবং জাফলং ৮৩ মিলিমিটার।

রংপুরে নদী ভাঙন

রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। গঙ্গাচড়ায় পানির তোড়ে মার্জিনাল ডাইক (প্রান্তিক বাঁধ) এর ব্লক পিচিং ধসে গেছে। কয়েকদিনের বন্যায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নোহালী ইউনিয়নের বৈরাতি নামক স্থানে অবস্থিত মার্জিনাল ডাইকের প্রায় ৭০ ফুট অংশের ব্লক পিচিং ধসে যায়। স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তারা জানান, ২০১৮ সালে এখানে ব্লক পিচিং করা হলেও সামনে ব্লক ডাম্পিং না করার কারণে পানির তোড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট এলাকার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, দু-একদিনের মধ্যে সেখানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে। এদিকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এক সপ্তাহ যাবৎ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে গত কয়েকদিনের বন্যার পানিতে ডুবে শান্ত, বেলাল ও মোস্তাকিম নামে ৩ শিশু মারা গেছে বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন নিশ্চিত করেছে।

এদিকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে সদরের সারডোব, মুঘলবাসা  ও নুনখাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এ ছাড়া জয়কুমার, থেতরাই, কালিরহাটসহ আরও ১২টি স্পটে ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছে অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার।

গাইবান্ধায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে

গত দুই দিন থেকে গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমতে থাকলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৪ সেন্টিমিটার ও ঘাঘটের পানি ৩ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে ব্রহ্মপুত্র এখনো বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে বলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। অন্যদিকে, করতোয়ার পানি ২ সেন্টিমিটার আর তিস্তার পানি ১২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সিরাজগঞ্জেযমুনার পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়নের ২১৬টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে।

টাঙ্গাইলে পানি বাড়ছে

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে টাঙ্গাইলের সবকটি নদীর পানি বাড়ছে। যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় টাঙ্গাইলের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ধলেশ্বরীসহ জেলার সব অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার তীর উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় নতুন নতুন এলাকায় বন্যাকবলিত হচ্ছে।

নেত্রকোনায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা এই পাহাড়ি ঢলে বন্ধ হয়ে গেছে নেত্রকোনা-ঠাকুরোকানা কলমাকান্দা সড়কের যোগাযোগ। বিভিন্ন স্থানে সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে বাস, টেম্পু, রিকশাসহ ওই সড়কে সব প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।#

পার্সটুডে