ঈদের সেই আনন্দ নেই

প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ , মে ২৫, ২০২০

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে আগের মতো ঈদের সেই আনন্দ নেই, নেই হাসিমুখ, নেই কোনো কোলাকুলি। মসজিদে ঈদের নামাজে ঢুকে চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।

বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। তবে অন্য বার ঈদের নামাজ শেষে একজন আরেকজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার যে দৃশ্য দেখা যেত এবার তা দেখা যায়নি।

প্রতিবছর ঈদের নামাজের পর হাসিমুখে কোলাকুলির এই দৃশ্য দেখা গেলেও এবার সেই দেখা মিলছে না। এক মাস রোজা রাখার পর খুশির ঈদ এলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে তা নিরানন্দ হয়ে গেছে। ঈদের খুশির বদলে মানুষের মনে আতঙ্ক আর নানা দুশ্চিন্তা ভর করেছে।

এক মুসল্লি বলেন, ঈদের দিন এমন হবে কোনোদিন ভাবিনি। রোজার শেষে ঈদ এসেছে, কিন্তু ঈদের সেই আমেজ কোথাও নেই। ঈদের নামাজ পড়েছি আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে।

তিনি বলেন, মহামারি করোনাভাইরাস আমাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। কবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাব তার কোনো ঠিক নেই।

আরেক মুসল্লি বলেন, অন্যবার ঈদের দিন বন্ধুরা মিলে কত হইহুল্লোড় করে বেড়িয়েছি। এবার আর কোনো কিছু নেই। একবন্ধু আরেক বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খেতে যাব তার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতির ঈদ খুশির বদলে বেদনা দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জীবনে আর কখনো ইমন ঈদের দিন আসবে কি-না জানিনা। তবে যতদিন বেঁচে থাকব এই ঈদের দিনের কথা মনে থাকবে। এ কথা কখনো ভুলব না।

ষাটোর্ধ্ব মমিনুল ইসলাম বলেন, বয়স আমার কম হয়নি। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ সবই দেখেছি। কিন্তু এমন দৃশ্য কখনো দেখিনি। কোনো যুদ্ধ নেই, হানাহানি নেই তারপরও মানুষের মনে কোনো আনন্দ নেই। এক কঠিন মুহূর্ত।

তিনি বলেন, প্রতিবছরই ঈদের দিন প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ করেছি। বন্ধু, বড় ভাই, পরিচিতজনদের ঈদের নামাজ শেষে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেছে। এবার কারো সঙ্গে কোলাকুলি করার কোনো সুযোগ হয়নি। দূরে দাঁড়িয়ে একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। কোলাকুলি করতে না পারার বেদনায় বুক ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু কিছু করার নেই। এ পরিস্থিতি আমাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে।

এদিকে রাজধানীর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ শারিরীক দূরত্ব এবং করোনা ভাইরাস পরিস্থিতর জন্য অন্যান্য নির্দেশনা মেনেই এই জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।