নেত্রকোণায় সরকারী গোদামে ধান ক্রয় করতে পারছে না জেলা খাদ্য বিভাগ

সুস্থির সরকার সুস্থির সরকার

বিভাগীয় প্রধান ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ , জুন ২৯, ২০২০

নেত্রকোণা জেলায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান এখন কৃষকের গোলায়। আষাঢ় মাস ভরা বর্ষা। সংসারের নানা প্রয়োজন আর পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ করার এটাই উপযুক্ত সময়। তাই কৃষকের ধান বিক্রির এখনই শুভক্ষণ। ধান মৌসুমের ১ মাস অতিবাহিত হলেও সরকারী গোদামে ধান কিনতে পারছে না। সরকারী গোদামে ধান না থাকাটা ভবিষ্যতের জন্য একটি দু:সংবাদ।

নেত্রকোণা জেলার ১০ টি উপজেলা খাদ্য অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে অদ্য ২৯ জুন (সোমাবার) যে তথ্য পাওয়া গিয়াছে তা উপস্থাপন করা হলো:

নেত্রকোণা সদর উপজেলা ২টি গোদামে ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা ২৪০০ টন, ক্রয় করা হয়েছে ৭০ টন। বারহাট্টা উপজেলায় লক্ষমাত্রা ১২০০ টন, ক্রয় করা হয়েছে ৫৩ টন। মোহনগঞ্জ উপজেলায় লক্ষমাত্রা ৩০০০ টন, ক্রয় করা হয়েছে ২০০ টন। পূর্বধলা উপজেলায় লক্ষমাত্রা ২৪০০ টন, ক্রয় করা হয়েছে ৩২৪ টন। কেন্দুয়া উপজেলায় লটারীর তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোন ধান ক্রয় করা হয়নি। মদন উপজেলায় লক্ষমাত্রা ২৪০০ টন, ক্রয় করা হয়েছে ৩০০ টন। কলমাকান্দা উপজেলায় লক্ষমাত্রা ৩৫০০ টন, ক্রয় করা হয়েছে ২৬২ টন। খালীয়াজুরী উপজেলায় লক্ষমাত্রা ২৩০০ টন, ক্রয় করা হয়েছে ৫২৯ টন। আটপাড়া উপজেলা লক্ষ মাত্রা ২৩০০ টন, ক্রয় করা হয়েছে ৬ টন। দূর্গাপুর উপজেলা ১৫০০ টন, ক্রয় করা হয়েছে ৪০০ টন। মোট ধান কেনা হয়েছে ২০৯৮ টন।

উপজেলা খাদ্য অফিসের কর্মকর্তারা জানান, সরকারী গোদামের চেয়ে কৃষকরা স্থানীয় বাজারে ধানের দাম ভাল পাচ্ছেন তাই তারা সরকারী গোদামে ধান না দিয়ে স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রি করছেন। লটারীর বিজয়ী কৃষকদের তারা নানাভাবে ধান গোদামে দেয়ার অনুরুধ করলেও তা মানছেন না। তারা (কর্মকর্তা) আরও বলেন স্থানীয় বাজার ও সরকারী গোদামে ধানের দামের ব্যবধান খুব বেশি নয়। উল্লেখ্য প্রতি মন ধান সরকারী গোদামে ১০৪০ টাকা এবং স্থানীয় বাজারে তারা ৯৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন।

খালীয়াজুরি থেকে কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর তারা ভাল ধান পেয়েছেন। ধান বিক্রি করে অনেক লাভবান। সরকার একজন কৃষকের জন্য ১ টন ধান বরাদ্দ দিয়েছেন, তাই ১ টন ধান নিয়ে কৃষক গোদামে যাবে নৌকা ভাড়া নিয়ে তাতে তার লাভ হবেনা ফলে তারা বাড়িতেই ধান বিক্রি করছেন। ফলে সরকারী গোদাম ধান সংগ্রহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক কৃষকের কাছ যদি কমপক্ষে ৫ টন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাহলে সরকারী গোদামে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারবেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন জানান, এ বছর জেলায় মোট ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা ২০, ৯১০ টন। ধান কিনতে কিছু বিলম্ব হচ্ছে তবে তিনি লক্ষমাত্রা পুরণে আশাবাদী। তিনি আরও জানান উপজেলা পর্যায়ে ধান ক্রয়ের যে কমিটি আছে তাদের সাথে সমন¦য় করে অচিরেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন।

সাধারণ মানুষ মনে করেন কৃষকের অনুকূলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারী গোদামে ধান ক্রয় খুবই জরুরী। সরকারকেই সরকারী গোদামে ধান ক্রয়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সরকারী গোদামে ধান না থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।