পবিত্র হজ বাতিলের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ১:০৩ পূর্বাহ্ণ , জুন ২৫, ২০২০
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সৌদি আরবের বাহির থেকে কোন দেশের হজযাত্রী এ বছরের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে না।
 
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পবিত্র হজ বাতিলের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের করণীয় নির্ধারণ করতে আজ দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় এক আন্তঃমন্ত্রণালয় (অনলাইন) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নূরুল ইসলাম।
 
সভায় ধর্ম সচিব মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, রাজকীয় সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টিার টেলিফোনে ২০২০ খ্রি. সালের হজ এর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ সময় করোনাভাইরাস পরিস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশ, সৌদি আরব এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি জানান, সার্বিক বিবেচনায় এ বছর বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রী প্রেরণ করা যাবে না। এ জন্য তিনি বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি সমবেদনা ও আন্তরিক দু:খ প্রকাশ করেছেন।
 
সভার শুরুতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য প্রয়াত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ এর আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয় ও তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।
 
সভায় ২০২০ সালের হজ বিষয়ে রাজকীয় সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত বার্তা উপস্থিত সকলকে অবহিত করা হয়। সভা অবহিত হয় যে, করোনা ভাইরাস মহামারি জনিত কারণে এ বছর পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে কোন ব্যক্তি হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গমন করতে পারবেন না। সৌদি আরবে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং সৌদি আরবের নাগরিকদের অংশগ্রহণে সীমিত পরিসরে হজ অনুষ্ঠিত হবে। সঙ্গত কারণে আজকে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।
 
সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে,২০২০ সালের জন্য যাদের প্রাক-নিবন্ধনের মেয়াদ বৈধ ছিল তা ২০২১ সালের জন্য বলবৎ থাকবে।
 
সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যস্থাপনার যেসব প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তি ২০২০ সালের হজের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন তাঁদের নিবন্ধন ২০২১ সালের জন্য বৈধ থাকবে। নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের জমাকৃত টাকা ২০২১ সালের প্যাকেজ মূল্যের সাথে সমন্বয় করা হবে।
 
নিবন্ধন বাতিলকারী হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের টাকা কোন প্রকার কর্তন ব্যতিত ফেরৎ প্রদান করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক থেকে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের অর্থ সরাসরি হজযাত্রীর একাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। কোন হজযাত্রীর ব্যাংক হিসাব না থাকলে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী চেক/পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
 
বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য জমাকৃত অর্থ হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি ব্যাংক থেকে অথবা এজেন্সির মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রাক-নিবন্ধনের জন্য জমাকৃত অর্থ পূর্বের ন্যায় পরিচালক, হজ অফিস, ঢাকা থেকে হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি তাঁর ব্যাংক হিসাবে চেক এর মাধ্যমে অথবা এজেন্সির মাধ্যমে ফেরৎ প্রদান করা হবে।
সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত কোন হজযাত্রী নিবন্ধন বাতিল করে টাকা ফেরত চাইলে তা অনলাইনে অথবা হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী ফেরৎ প্রদান করার জন্য আগামী ১২.০৭.২০২০ এর মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অনুরূপ একটি নিবন্ধন বাতিল প্রক্রিয়া (Software) প্রস্তুত করে ই-হজ সিস্টেমে সংযুক্ত করা হবে। নিবন্ধন বাতিলে ইচ্ছুক হজযাত্রীগণকে স্ব স্ব নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করতে হবে। ১৩.০৭.২০২০ খ্রি. তারিখ থেকে নিবন্ধনে বাতিলে ইচ্ছুক হজযাত্রীগণ আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত সফটওয়ার প্রস্তুত ও পরীক্ষার জন্য উপস্থিত সকলের সম্মতিতে নিয়োজিত আইটি প্রতিষ্ঠানকে এ সময় প্রদান করা হয়।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে কোন হজযাত্রী প্রেরণ করা হবে না বিধায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক কোন Vaccine ক্রয় করা হবে না।
 
এ বছর বাংলাদেশ থেকে কোন হজযাত্রী প্রেরণ করা হবে না বিধায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আহ্বানকৃত ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয় সংক্রান্ত দরপত্র বাতিল করে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করতে হবে।
 
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হজ এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী’র সঞ্চালনায়
 
অনুষ্ঠিত এ অনলাইন সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লি., ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার, কাউন্সেলর (হজ), জেদ্দা, পরিচালক, হজ অফিস, ঢাকা, বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক লি., প্রিমিয়ার ব্যাংক লি., হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এবং বিজনেস অটোমেশন লিমিটেড এর প্রতিনিধিগণ Online অংশ গ্রহণ করেন।