করোনার দুশ্চিন্তা যেসব ভয়াবহতা ডেকে আনবে

প্রকাশিত: ৩:০৫ অপরাহ্ণ , জুন ১৯, ২০২০

দুশ্চিন্তার ভার অনেকেই নিতে পারেন না। তার উপর করোনাকালীন যে পরিস্থিতি, তাতে দুশ্চিন্তা আরও চেপে বসেছে। এভাবে কতদিন থাকতে করতে হবে, তার কোনও ঠিক নেই। বিজ্ঞানীরা বলেই দিয়েছেন কোভিড থেকে সহজে মুক্তি নেই। হয়তো ভাইরাসের শক্তি ক্ষয় হবে, কিন্তু এটা থাকবে। তাই চাপমুক্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নয়তো এই দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের হাত ধরে অন্য রোগও বাসা বাঁধতে পারে শরীরে।

করোনার সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব মানতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে অনেক কিছুই ছেড়ে দিতে হচ্ছেন। আর তাতেই অনেকের মেজাজ খারাপ হচ্ছে। শরীর-মনে চাপ
সৃষ্টি হয়। এক সময়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে ডুবে যান। দেখা দেয় অনিদ্রা ও নানা রোগ।

এবার জেনে নিন করোনার ভয়ে কী কী রোগ বাড়তে পারে…

ওবেসিটি

মানসিক চাপ বাড়লে অনেকেরই হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো মনোভাব হয়। তার প্রভাব পড়ে জীবনযাপনে। বাছবিচার না করে যা খুশি খেতে শুরু করেন। ব্যায়াম ছেড়ে দেন। ফলে ওজন বাড়ে। তার হাত ধরে হাই প্রেশার, হাই কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার, হৃদরোগ, বাত ইত্যাদির আশঙ্কা বাড়ে। রোগ থাকলে বাড়ে তার প্রকোপ।

ডায়াবেটিস

এই অসুখ এত দিন হয়তো ছিল আয়ত্তের মধ্যে। কারণ সঠিক খাবার খেতেন, ব্যায়াম করতেন। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষাও করতেন। করোনার ভয়ে সব বন্ধ হয়ে গেল। বন্ধ হল হাঁটাহাটি। শিকেয় উঠল খাওয়ার নিয়ম। সঙ্গে যোগ হল তীব্র মানসিক চাপ। ফলে রোগের প্রকোপ বাড়ার সব কারণই এখন আপনার মধ্যে মজুত।

অনিদ্রা

মানসিক চাপের সঙ্গে যোগ আছে অনিদ্রার। আবার এর সঙ্গে রয়েছে খিটখিটে মেজাজ ও মনোযোগ কমার লক্ষণ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতেও এগুলোসিদ্ধহস্ত। ফলে যে রোগের চিন্তায় রাতের ঘুম বরবাদ হচ্ছে, সে রোগ হওয়ারই আশঙ্কাই অনেকটা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বদহজম

মানসিক চাপ বাড়লে অম্বল, বদহজম সব বাড়ে। নিয়ম মানা হয় না বলে এইগুলো বাড়ে। টুকটাক অম্বল বা হজমের ওষুধ খেয়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টায় তা বেড়ে যেতে পারে আরও।

ঋতুস্রাব

উদ্বেগের হাত ধরেই মেয়েদের শুরু হতে পারে অনিয়মিত ঋতুস্রাব। মাসে একাধিক বার হওয়ার নেপথ্যের অন্যতম কারণ এই টেনশন।

মনোবিদদের মতে, দুশ্চিন্তা করে যখন করোনাকে ঠেকাতে পারবেন না, তখন দুশ্চিন্তাকেই বরং ঠেকানোর চেষ্টা করুন। এর সঙ্গে ঠিক করুন জীবনযাপন। কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে সে কাজ অনেকটাই সহজ হবে। যেমন—

• জীবনযাপনের নতুন নিয়মগুলো মেনে নিন। যত তাড়াতাড়ি মানবেন, তত ভাল থাকতে পারবেন।

• রিল্যাক্সেশনের নতুন পথ খুঁজুন। সে বই পড়া হোক বা গান শোনা। ঘরে বসে সিনেমা দেখা বা হালকা ব্যায়াম করা। যোগাসন ও মেডিটেশনে মন হালকা হয়। কাজেই চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

• টিভিতে বা মোবাইলে হালকা অনুষ্ঠান দেখুন। হাসির অনুষ্ঠান দেখলে আরও ভাল।

• ডায়াবেটিস, হাই প্রেশার ও ওবেসিটি থাকলে নিয়ম করে ব্যায়াম করুন। এখন জিমে ভর্তি হয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। প্রশিক্ষক রেখে ব্যায়াম করার উপায়ও নেই। এখন যা করতে হবে একা। মনকে সেভাবে প্রস্তুত করে নিন। প্রয়োজনে ফোনে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিন।

• খাওয়াদাওয়ায় একটু রাশ টানুন। ডায়াবেটিস ও মেদবাহুল্য থাকলে কার্বোহাইড্রেট ও মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করুন। হাই প্রেশার থাকলে লবণ জাতীয় খাবার ও ভাজাভুজি পরিহার করুন।

• ঘন ঘন চা-কফি-কোলা খেয়ে ঘুম নষ্ট করবেন না। মন ভাল রাখার অর্ধেকটা কিন্তু লুকিয়ে আছে এই ঘুমের মধ্যেই।

• কোন অস্বস্তি শুরু হলে চিকিৎসা না করিয়ে বসে থাকবেন না। ফোনে বা অনলাইনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন