দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়া নিয়ে যা বললেন ড. বিজন কুমার শীল

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ , জুন ১৬, ২০২০

মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে আবার দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছেন অনেকেই। এর মধ্যে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মারাও গেছেন, আবার সুস্থও হয়েছেন। 

তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কোনো কোনো গবেষণা বলছে, দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই, আবার কেউ কেউ বলছেন আক্রান্ত হতে পারে। তবে বাংলাদেশে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার রোগী পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়েছেন, আবার অনেকেই মারা গেছেন।

তবে একজন মানুষের দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. বিজন কুমার শীল বলেন, একেবারেই নেই। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যার একবার ইমিউন সিস্টেম রেসপন্স করেছে, তার হওয়ার শঙ্কা নেই। তবে কেউ যদি ইমিউন সিস্টেমের ক্ষতি হয় এমন ওষুধ খান, তাহলে তার দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকতে পারে।

তিনি বলেন, অনেকেই আছেন, বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির কারণে তাদের ওষুধ খেতে হয়। তাদের ক্ষেত্রে হওয়ার একটু সম্ভাবনা আছে। যারা সুস্থ হয়ে যাবেন, তারা এক বছর তো কমপক্ষে, অনেকে দুই বছর পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবেন। তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করার মতো একটা ব্যবস্থা হয়ে আছে। তখন ভাইরাসটার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, বডির ইমিউন সিস্টেম বুস্ট আপ হবে। এটা অনেকটা ভ্যাকসিনের মতো বলতে পারেন।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা রিঅ্যাকটিভেশন (শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকার পর ভাইরাসটি দ্বারা পুনরায় সংক্রমিত হওয়া) অথবা রিইনফেকশন (একবার পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় আক্রান্ত হওয়া) হতে পারে। তাছাড়া ভাইরাসটি এখন নতুন অবস্থায় থাকায় এর গতি প্রকৃতি সম্পর্কে সবকিছু জানা যাচ্ছে না। তবে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়াদের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে এতই কম যে, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন জানান, সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কম। তবে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার পরও তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাদের আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাবধানতা মেনে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, প্রথমবার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া রোগী অর্থাৎ যার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে-তিনি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবেন না। এ রকম কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি বলেও জানায় সংস্থাটি।

ডব্লিউএইচও বলছে, গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। তবে কিছু মানুষের শরীরে খুব কম অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

তবে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়া এসব রোগী অন্যদের সংক্রমিত করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক।

কোরিয়ান সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর বিজ্ঞানীরা যারা করোনা থেকে সেরে উঠার পরেও ফের তাদের দেহে ভাইরাসটির উপসর্গ দেখা দিয়েছে এমন ২৮৫ জন রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়েছে।