দেশের ইতিহাসে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট

প্রকাশিত: ১:৪৮ অপরাহ্ণ , জুন ১১, ২০২০

আজ আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বাড়াতে সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ রয়েছে। সেই সঙ্গে করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসতেও কয়েক মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। এতে করে সরকারের রাজস্ব আয় আরও সংকুচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয়ের অনিশ্চয়তার মধ্যেও বড় বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী। এটি পাশ হবে ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর। তবে এবারের বাজেট অধিবেশনও গতানুগতিক হচ্ছে না। সীমিত ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংসদ সদস্য অধিবেশনে যোগ দেবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর যেদিন যাদের বক্তব্য থাকবে, সেদিন শুধু ঐ সংসদ সদস্যরাই বৈঠকে থাকবেন। করোনার সংক্রমণ এড়াতে সংসদ কক্ষে সদস্যদের আসন বিন্যাসেও সাময়িক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংসদ ভবনে এবার দর্শনার্থীর প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদেরও সংসদ ভবনে না গিয়ে সংসদ টিভি দেখে অধিবেশন কাভার করার অনুরোধ জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়। অর্থমন্ত্রীর বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনও ভার্চুয়াল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৬৬ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা বেশি। চলতি সংশোধিত বাজেটের আকার হচ্ছে ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। করোনা পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয়ের বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই বড় অঙ্কের বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।

করোনায় আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে টানা ৬৬ দিন সরকারি সাধারণ ছুটির কারণে অধিকাংশ শিল্প, কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ ছিল। এর ফলে এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে ভাটা পড়ে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখন সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। লকডাউন-পরবর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য এখন সচল হলেও ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান লোকসানে রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট দেশ উৎপাদনের আকার (জিডিপি) ধরা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি। আগামী বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আসন্ন অর্থবছরে কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর করবহির্ভূত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর ব্যতীত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ হাজার ৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ৩৫ হাজার ২ কোটি টাকা।

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত। সব মহলের দাবি স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর। সরকারও এবার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আসন্ন বাজেটের মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ থাকছে স্বাস্থ্য খাতের জন্য। ২০২০-২১ বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকছে ২৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, যা চলতি সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি।

পাশাপাশি কৃষি খাত, খাদ্য উত্পাদন ও ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসংস্থানকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে নানা ধরনের কৃষি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, ব্যবসাবাণিজ্যকে পুনরুদ্ধার করাসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাজেটে বিভিন্ন প্রস্তাবনা থাকছে।