নোয়াখালীতে সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক-১

প্রকাশিত: ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ , মার্চ ৮, ২০২১
সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা মামলার ১৫ দিন পর ৭ই মার্চ রবিবার দুপুরের দিকে বসুরহাট এলাকা থেকে মুজাক্কির হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে বেলাল ওরফে পাংখা বেলাল নামে এক যুবককে আটক করেছে পিবিআই পুলিশ।
 জানা গেছে,চরফকিরা ইউনিয়নের ইব্রাহিমের পুত্র বেলাল,সে স্থানীয় যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত। তাকে সন্দেহজনক ভাবে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন নোয়াখালীর পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান।
ইতিমধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে সিসি ফুটেজ সংগ্রহে গড়িমসি এবং সিসি ফুটেজ গায়েবেরও অভিযোগ রয়েছে ঐ এলাকার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
তবে সচেতন মহল মনে করেন যে পুলিশ দায়িত্বশীল হলে সিসি ফুটেজ ইতিমধ্যে তাদের সংগ্রহে চলে আসতো বলেও মন্তব্য করেন জেলায় কর্মরত সাংবাদিক নেতারা।অপরদিকে নিহত বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির এর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,পুলিশ বেলাল নামের একজনকে আটক করেছে।কিন্তুু সঠিক আসামি চিহ্নিত না হওয়ায় কারনে ঘটনার সাথে জড়িতরা সকলেই প্রকাশ্যে ঘুরা ফেরা করছে।
 এ সময় সাংবাদিকদের অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,পুলিশ কেবলই সাংবাদিকদের বেলায় উদাসিন ও দেউলিয়া হয়ে পড়ে। যার একমাএ প্রমান মুজাক্কির হত্যার ঘটনা।শুধু তা নয়,ইতিমধ্যে সিসি ফুটেজ গায়েব কাহীনি সহ ভয়ভীতি আর রাজনৈতিক পক্ষে-বিপক্ষ প্রতিপক্ষের রোষানলে মুজাক্কির হত্যা ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিতের অপচেষ্টাও করা হচ্ছে। তাই অতিদ্রুত সকল আসামিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার ও জোড়ালো  দাবি করছে সাংবাদিক মহল।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কোম্পানিগঞ্জে আ’লীগের দুটি পক্ষের সংঘর্ষকালে অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলির ভিডিও চিত্রধারন করেছিল সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির।
এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে একপক্ষের সন্ত্রাসীরা মুজাক্কিরের ভিডিও ডিলেট করতে চাপ দেয়। মুজাক্কির রাজী না হওয়ায় তাৎক্ষনিক খুব কাছ থেকে তাকে গুলি ছোড়ে।এতে গুলিতে তার বুক ও গলা ঝাজড়া হয়ে যায়।এক পর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।পর রক্তক্ষরন বন্ধ না হওয়ায় তাকে  অতিদ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ৩ দিন পর সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির  মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে গত  ২১শে ফেব্রুয়ারি রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরে পুত্র হত্যার বিচার চেয়ে নিহত মুজাক্কির এর পিতা মোঃনওয়াব আলী মাষ্টার বাদী হয়ে ২৫ শে ফেব্রুয়ারি কোম্পানিগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।পরে মামলাটি পিবিআই পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পান।
এ দিকে সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা কান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও সুবিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এখনো মাঠে রয়েছে মুজাক্কির হত্যা মুল রহস্য উদঘাটন করতে।