আক্রান্ত তিন হাজার ১৭১ জন

করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ৪৫ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ , জুন ৯, ২০২০

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৯৭৫ জনের মৃত্যু হলো। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও তিন হাজার ১৭১ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭১ হাজার ৬৭৫ জনে।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ হাজার ৬৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো চার লাখ ২৫ হাজার ৫৯৫টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ১৭১ জনের মধ্যে, যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড।

ফলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭১ হাজার ৬৭৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৫ জন, যা একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো ৯৭৫ জনের। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭৭৭ জন। ফলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন মোট ১৫ হাজার ৩৩৬ জন।

গত সোমবারের (৮ জুন) বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ জন মারা গেছেন, যা একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। তার আগের দিনও সমানসংখ্যক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। ১২ হাজার ৯৪৪টি নমুনা পরীক্ষায় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও দুই হাজার ৭৩৫ জনের মধ্যে।

সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও সংক্রমণ শনাক্ত শুধু বাড়েইনি, হয়েছে সর্বোচ্চ প্রাণহানি ও শনাক্তের রেকর্ডও। এর আগে, দেশে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল দুই হাজার ৯১১ জনের, যা গত ২ জুনের বুলেটিনে জানানো হয়।

বরাবরের মতোই করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান ডা. নাসিমা।

এদিকে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার শিকার এখন পর্যন্ত ৭১ লাখ প্রায় ৯০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ লাখ প্রায় ৭ হাজার ২৫০ জন। নতুন করে প্রাণ কেড়েছে ৩ হাজার ১৫৭ জনের। এ নিয়ে করোনারাঘাতে না ফেরার দেশে বিশ্বের ৪ লাখ ৮ হাজার ২৪০ জন মানুষ। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন সাড়ে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।