আমতলী সরকারী কলেজে এইচএসসি (বিএম) শাখায় এ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায়!

প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

করোনার প্রভাব উপেক্ষা করে বরগুনার আমতলী সরকারী কলেজের এইচএসসি (বিএম) শাখায় এ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতি বিষয় প্রতি ৪০ টাকা করে ৪’শ এবং ব্যবহারিক ১’শ ৫০ টাকাসহ মোট ৫’শ ৫০ টাকা আদায় করছে। এ টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছে অভিভাবকরা। কলেজ সংশ্লিষ্টদের দাবীকৃত টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের এ্যাসাইনমেন্ট খাতা দেয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
জানাগেছে, করোনা ভাইরাসের কারনে বাংলাদেশ কারিগড়ি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে ২০২০ সালের এইচএসসি (বিএম) শাখার একাদ্বশ শ্রেণীর বোর্ড চুড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। গত ১৮ জানুয়ারী এ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা চুড়ান্ত করে কলেজ কর্তৃপক্ষকে নম্বর বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশনার পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ্যাসাইনমেন্টের নামে ফি ধায্য করেনি বোর্ড। গত ২০ জানুয়ারী ১’শ ৯৩ জন পরীক্ষার্থীর এ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষা শুরু করে আমতলী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান। ওই এ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার নির্দেশনায় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা নেয়ায় নির্দেশনা না থাকলেও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান এবং বিএম শাখার প্রভাষক মোঃ সাইফুল আলম সুমন মুন্সি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিষয় প্রতি ৪০ টাকা করে ১০ বিষয়ে ৪’শ এবং ব্যবহারিক ১’শ ৫০ টাকাসহ মোট ৫’শ ৫০ টাকা আদায় করছেন। অভিভাবকদের এ টাকা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত বছর ফরম পূরনের সময় ওই পরীক্ষার্থীরা এ পরীক্ষার সমুদয় টাকা পরিশোধ করেছেন। এখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাড়তি টাকা আদায় করছেন এমন অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের। এ পরীক্ষায় ১’শ ৭০ জন পরীক্ষার্থী এ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। টাকা দিতে না পারায় ২৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারেনি। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবীকৃত টাকা না দিলে পরীক্ষার্থীদের এ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষা খাতা দেয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থীর। আমতলী সরকারী কলেজের পরীক্ষার্থী আতিক, ওবায়দুল্লাহ, মোঃ নাঈম, রাকিব, সাকিল, আতিকা ও রাকিবুল বলেন, গত বছর ফরম পূরনের সময় সকল টাকা পরিশোধ করেও এখন এ্যাসাইনমেন্ট ও ব্যবহারিক পরীক্ষা মিলে অধ্যক্ষ স্যারে ৫’শ৫০ টাকা নিচ্ছে। করোনার মধ্যে কষ্টে হলেও বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হচ্ছে। তারা আরো বলেন, কলেজ সরকারী কিন্তু টাকা দিতে হয় বে-সরকারী কলেজের চেয়ে বেশী। অন্যান্য সরকারী কলেজের মত কোন সুবিধা আমরা ভোগ করতে পারছি না। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তারা।
আমতলী সরকারী কলেজের বিএম শাখার প্রভাষক মোঃ সাইফুল আলম সুমন মুন্সি এ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষায় টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়ে বোর্ডের নির্দেশনা না থাকলেও আনুসাঙ্গিক খরচের জন্য টাকা আদায় করা হচ্ছে।
আমতলী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমানের সাথে তার মুঠোফোনে (০১৭৪৯৭১৮৪১৫) যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি লাইন কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, খোজ খবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।