কোম্পানিগন্জে মির্জা কাদেরের ডাকে সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালিত।

প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১
  • আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় শুক্রবার রাত ৯ টায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সংঘর্ষে আহতদের নিজের দলের সমর্থক বলে দাবী করে তিনি শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন।
    জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনাস্থল থেকে আসার পথে উপজেলার চরকাঁকড়া টেকের বাজার নামক স্থানে বাদল গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত ফখরুল ইসলাম সবুজের নেতৃতে রাস্তায় ব্যারিকেড দিলে আবদুল কাদের মির্জা গাড়ীবহর সহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ, অতিরিক্ত রিজার্ভ পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েকটি গাড়ী গিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে দিয়ে মেয়র কাদের মির্জাকে উদ্ধার করেন।
    এ বিষয়ে মির্জা কাদের অভিযোগ তুলে বলেন, এমপি একরামুল করিম  চৌধুরীর বাড়ীতে শুক্রবার দুপুরে বৈঠক শেষে সন্ত্রাসীদের দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে।এ সময় বাদল ও সবুজের নেতৃত্বে,চাপাশিরহাট সহ টেকের বাজার নামক স্থানে পরিকল্পিত হামলা চালায়।
    তিনি আরও বলেন,পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এ আক্রমন করা সম্ভব নয়। এজন্য আমি এ ঘটনায় মামলায় নোয়াখালীর ডিসি, এসপি, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কে আসামী করবো। এই ছাড়া ফেনীর নিজাম হাজারী এমপি, নোয়াখালীর একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, ফেনী পৌরসভার মেয়র স্বপন মিয়াজী, দাগনভুঞা উপজেলার চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপন, নোয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন জেহান, সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বেলায়েত হোসেন, সেতুমন্ত্রীর এপিএস মহিতুল, পিএ আবদুল মতিন ও পিআরও নাছেরকেও এ মামলায় আসামী করা হবে।
    অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল এ ঘটনার জন্য মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার সমর্থকদেরকে দায়ী করে তিনি  বলেন, বিগত তিন মাস ধরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাবাসী এক ব্যক্তির কাছে জিম্মি করে রেখে, তিনি  কখনো হরতাল, কখনো ধর্মঘট আবার কখনো কখনো সড়কে  অনশন কর্মসূচী দিয়ে উপজেলাবাসীকে হয়রানি করে আসছেন।
    শুধু তা নয় তিনি প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী, এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে অনবরত কটাক্ষ করে কথা বলে যাচ্ছেন।
    সে নাকি সত্যবচন করছে এবং  অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলে এটা সম্পূর্ণ রুপে মিথ্যা। অপরাজনীতিতো শুধু তিনি  করে যাচ্ছেন।কাউকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমত বিভিন্ন কমিটি ভাঙ্গছেন আর নতুন কমিটি করছেন।
    আজ বিকালে আমার বাড়ীতে নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভা চলাকালে তার নেতৃত্বে,সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে আমার নেতাকর্মীদের গুলি করে আহত করে।
    উল্লেখ, শুক্রবার বিকালে চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে মির্জা কাদের ও মিজানুর রহমান বাদল সমর্থিত আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।এ সময় আহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।