বরগুনার আমতলীর লক্ষাধীক মানুষকে দুষিত পরিবেশ থেকে রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন।

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

আমতলী উপজেলার চাওড়া, হলদিয়া, কুকুয়া, সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার উপর দিয়ে প্রবাহিত ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ মিটার প্রস্থ চাওড়া- সুবন্দি বদ্ধ নদী কচুরীপানায় টুইটম্বুর। পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দুষিত হয়ে চার ইউনিয়ন ও পৌরসভার লক্ষাধীক মানুুষ গত ১২ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পরিবেশ দুষনের হাত থেকে লক্ষাধীক মানুষকে রক্ষার দাবীতে বিশ^ জলাভুমি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন, আমতলী প্রেসক্লাব ও সুবন্দি বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া বাজার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহন করেন।
জানাগেছে, ১৯৮২ সালে আমতলীর চাওড়া ও পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনের হাত থেকে আমতলী শহরকে রক্ষায় সংযোগস্থল চৌরাস্তায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ করে। কালের বিবর্তনে চাওড়া নদী মরা নদীতে পরিনত হয়। ত্রিভুজ আকৃতির ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ মিটার প্রস্থ এ নদীটি উপজেলার হলদিয়া, কুকুয়া, চাওড়া, আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২৫টি গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত। নদীর ভৌগলিক অবস্থানের কারনে সুবন্দি অংশে রামনাবাঁধ নদী, ঘুঘুমারী অংশে টিয়াখালী ও আমতলীর অংশে পায়রা নদীর সাথে সংযোগ রয়েছে। প্রাকৃতিক জলোচ্ছাস ও লবনাক্ততার হাত থেকে মানুষ ও সম্পদ রক্ষায় ২০০৯ সালে বামনাবাঁধ নদীর একাংশ সুবন্দি নামক স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ করে। চাওড়া ও সবন্দি নদীর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৫ সালে দু’ব্যান্ডের স্লুইজ নির্মাণ করেছে। এদিকে ১৯৬৭ সালে জুলেখা খালে পাঁচ কপাট ও উত্তর টিয়াখালী খালে পাঁচ কপাট এবং ঘুঘুমারিতে এক কপাটের স্লুইজ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জুলেখা, উত্তর টিয়াখালী ও ঘুঘুমারি খালের জল কপাট বন্ধ করে একটি প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করে আসছে। এছাড়াও জুলেখার স্লুইজ খালের লক্ষী নামক স্থানে তিনটি বাঁধ, উত্তর টিয়াখালী স্লুইজের আউরা বৈরাগী নামক স্থানে বাঁধসহ খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে রেখেছে। অপরদিকে চাওড়া নদী সংলগ্ন লক্ষ্মী আমতলী খালসহ ১০টি খাল প্রভাবশালীরা অবৈধ ভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ এবং খাল দখল করে স্থায়ী বাড়ী ঘর নির্মাণ করছে। এতে নদীর পশ্চিম, দক্ষিণ ও পুর্ব দিকের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে ৩০ কিলোমিটারের কচুরীপানা আটকে জনদুভোর্গ চরম আকার ধারন করেছে। নদীর দু’পাড়ের মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছে না। কচুরীপানার কারনে পানি নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবেশ দুষিত হয়ে মারাত্ত্বক আকার ধারন করেছে। ওই খালের পানি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পরেছে। এমনকি গবাদি পশুও ওই পানি পান করছে না। এ খালের দু’পাড়ের প্রায় লক্ষাধীক মানুষের জনদুর্ভোগে পরিনত হয়েছে। ফলে খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরন ও অবৈধ দখল খাল মুক্ত করার দাবীতে কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে ভুক্তভোগীরা। লাখো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে চাওড়া নদীর পানি নিষ্কাশন ও কচুরীপানা অপসারনের দাবীতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন, আমতলী প্রেসক্লাব ও সুবন্দি বাচাও আন্দোলন সংগঠনের উদ্যোগে। হলদিয়া ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনএসএস নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না, বরগুনা জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফ-উল হাসান আরিফ, আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম বাদল, সাবেক সভাপতি একেএম খায়রুল বাশার বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নুহু-উল আলম নবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম নাশির মাহমুদ, বাপার বরগুনা জেলা সমন্বয়কারী মোঃ আরিফুল ইসলাম, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান সুমন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মহসীন মাতুব্বর, হারুন মীর, আলম মল্লিক ও রুহুল আমিন গাজী প্রমুখ। মানববন্ধন ও সমাবেশে পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহন করেন।
মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, সুবন্দি বাঁধের কারনে চাওড়া নদী দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কচুরীপনায় টুইটুম্বুর হয়ে আছে। পানি দুষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরেছে। মানুষ কৃষি কাজেও পানি ব্যবহার করতে পারছে না। দুষিত পানির কারনে পরিবেশ দুষিত হয়ে বিভিন্ন ধরনে রোগ বালাই ছড়িয়ে পরেছে। দ্রুত চাওড়া নদীর কচুরাীপানা অপসারন করে আমতলী পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধীক মানুষ রক্ষার দাবী জানান তারা।