বরগুনার আমতলীতে দলিল লেখকদের কর্মবিরতি! দলিল রেজিস্ট্রির পূর্বেই তিন বৃদ্ধ দাতার মৃত্যু! ভোগান্তিতে মানুষ।

প্রকাশিত: ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

বরগুনার আমতলী উপজেলায় দলিল লেখক সমিতি কর্মবিরতি পালন করছে। সাব রেজিস্ট্রার মোঃ মামুন সিকদার দলিল রেজিস্ট্রি না করায় তিন বৃদ্ধ দাতা মারা গেছেন এমন অভিযোগ দলিল লেখকদের। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ মামুন সিকদারের বিরুদ্ধে হয়রানী,গরিমসি ও গাফলতির অভিযোগ এনে সোমবার পর্যন্ত সাত কার্যদিবস দলিল সম্পাদন করছেন না দলিল লেখক সমিতি। এতে ভোগান্তিতে পরেছে আমতলী-তালতলী দুই উপজেলার দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসা অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। স্থায়ী সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত দলিল লেখকরা কর্ম বিরতি অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন দলিল লেখক সমিতির নেতা আমতলী পৌর কাউন্সিলর মোঃ আবুল বাশার রুমি।
জানাগেছে, গত বছর ৮ নভেম্বর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মোঃ মাসুম বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এর পর থেকে আট দিন আমতলীতে দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ ছিল। গত ১৭ নভেম্বর পাথরঘাটার সাব রেজিস্ট্রার মোঃ মামুন সিকদারকে আমতলী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন। তিনি আমতলী অফিসে সপ্তাহে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দুইদিন অফিস করেন। অভিযোগ রয়েছে বুধবার আধা বেলা এবং বৃহস্পতিবার দুই ঘন্টা অফিস করে দ্রুত অফিস ছেড়ে চলে যান। দলিল লেখকরা আরো অভিযোগ করেন প্রতিদিন ১’শ থেকে ১’শ ৫০ খানা দলিল সাব রেজিস্ট্রারের দফতরে জমা দেন তারা। ওই দলিল থেকে দুই দিনে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ৬০ থেকে ৭০ খানা দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। অবশিষ্ট দলিল তার দফতরে পরে থাকে। ভুক্তভোগীরা দিনের পর দিন ঘুরেও দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারছেন না। তার এমন গাফলতিতে ইতিমধ্যে তিনজন বৃদ্ধ দাতা দলিল করতে এসে বার বার ফিরে গেছেন। ওইতিন বৃদ্ধ দাতা দলিল রেজিস্ট্রি না করেই মারা গেছেন এমন দাবী দলিল লেখকদের। গত দুই মাসে তার দফতরে অন্তত দুই হাজার ৫’শ দলিল রেজিস্ট্রি ছাড়া পড়ে আছে। তার এমন কর্মকান্ডে ভোগান্তিতে পরেছে দুই উপজেলার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে হয়রানী, গরিমসি ও গাফলতির অভিযোগ এনে গত ৩১ জানুয়ারী থেকে আমতলী দলিল লেখক সমিতি কর্মবিরতি পালন করছে। সোমবার পর্যন্ত সাত দিন ধরে চলছে তাদের ডাকা কর্মবিরতি। নতুন সাব রেজিস্ট্রার না দেয়ে পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি চলবে বলে ঘোষনা দেন দলিল লেখক সমিতির নেতা পৌর কাউন্সিলর আবুল বাশার রুমি । দ্রুত আমতলী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার দেয়ার দাবী জানান ভুক্তভোগীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন দলিল লেখক বলেন, সাব রেজিস্ট্রার দলিল করতে গরিমসি করায় দলিল রেজিস্ট্রি না করেই তিন সেরেস্তায় তিনজন বৃদ্ধ দাতা মারা গেছেন।
ভুক্তভোগী মোঃ ফেরদাউস আলম রাসেল, মিজানুর রহমান ও খলিলুর রহমান বলেন. দুই সপ্তাহ হয়েছে দলিল রেজিস্ট্রি করতে দিয়েছি। এখন পর্যন্ত দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি। কবে নাগাদ দলিল হবে এখনো বলতে পারি না। দ্রুত সাব রেজিস্ট্রার দিয়ে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই।
আমতলী দলিল লেখক সমিতির নেতা কাউন্সিলর মোঃ আবুল বাশার রুমি বলেন, সাব রেজিস্ট্রার মামুন সপ্তাহে দুইদিন অফিস করেন। তাও আবার দুপুরের পরে অফিসে আসেন আবার যথাসময়ে চলে যান। এতে দলিল করতে আসা মানুষ দলিল রেজিস্ট্রি না করে চলে যেতে হয়। এভাবে গত দুই মাস ধরে চলছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা কর্মকিরতি পালন করছি। তিনি আরো বলেন, যতদিন পর্যন্ত স্থায়ী সাব রেজিস্ট্রার দেয়া না হবে ততদিন পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আমতলী দলিল লেখক সমিতির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আলমগীর কবির মোল্লা বলেন, সাব রেজিস্ট্রার মোঃ মামুন সিকদারের গাফলতিতে ইতিমধ্যে দলিল রেজিস্ট্রি না করেই তিন বৃদ্ধ দাতা মারা গেছেন। সাব রেজিস্ট্রার দুই দিনে ৬০ থেকে ৭০ টি দলিল রেজিস্ট্রি করেন। অবশিষ্ট দলিল তার দফতরে পড়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, মানুষের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত সাব রেজিস্ট্রার দেয়ার দাবী জানাই।
আমতলী উপজেলা অতিরিক্ত সাব রেজিস্ট্রার মোঃ মামুন সিকদার হয়রানী ও গাফলতির কথা অস্বীকার করে বলেন, সরকারী নিয়মনীতি মেনেই আমি অফিস করছি। কাগজপত্র দ্রুটি বিহীন সকল দলিল রেজিস্ট্রি করেছি এবং কাগজপত্র দ্রুতি যুক্ত দলিল ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। গত দুই মাসে এক হাজার ৪৯ খানা দলিল রেজিস্ট্রি করেছি। তিনি আরো বলেন, আমার দফতরে কোন দলিল অবশিষ্ট নেই। কোন দলিল লেখক যদি অফিসে দলিল জমা না দিয়ে তার সেরেস্তায় ধরে রাখেন সে দায়ভারতো আমি নেব না।