নোয়াখালীর কোম্পানিগন্জ বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আ’লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা আচরণবিধি সভা বর্জনের পর সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ

প্রকাশিত: ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ , জানুয়ারি ৪, ২০২১

কোম্পানিগন্জ বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী-লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জার সমর্থকদের নিয়ে তিনি রোববার সকাল ১০ টা থেকে ধাপে ধাপে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত উপজেলা মুজিব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে তিনি কোম্পানিগন্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম ও পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন এর উপস্থিতিতে নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত আলোচনা সভা চলাকালীন সময়ে আ’লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা কে (জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জিজ্ঞেস করেন) নির্বাচনীয় আচরণবিধি নিয়ে কোন কথা বলবেন কি না? জেলা প্রশাসকের এমন কথা শুনে তিনি রাগে ক্ষোভে সভা ত্যাগ করেন।

পরে তিনি ও তার অনুসারীদের নিয়ে  বসুরহাট চত্বরে জড়ো হন।এক পর্যায়ে তারা রাগে ক্ষোভে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন।পরে সমাবেশে  আবদুল কাদের মির্জা শুয়ে পড়েন এতে তার অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন। এ সময় টনাস্থলে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম আব্দুল কাদের মির্জা ও তার অনুসারীদের উদ্দেশ্য বলেন তারা যেন  অবরোধ তুলে নেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূএে জানা গেছে,সকাল সোয়া ১০ টার দিকে  কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে  জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত সভা চলছিল। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বক্তব্য রাখছিলেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান (আব্দুল কাদের মির্জা)কে  নির্বাচনীয় আচরণবিধি নিয়ে কথা বলার জন্য  অনুরোধ করেন।

এরপর আবদুল কাদের মির্জা সভাস্থল ত্যাগ করে।পরে তিনি ও তার অনুসারীরা বসুরহাট জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরে জড়ো হন। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন।

এ সময় আবদুল কাদের মির্জা সেখানে শুয়ে পড়লে তার অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকেন।পরে সমাবেশে আবদুল কাদের মির্জা তার বক্তব্যে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনীর এমপি  নিজাম হাজারী, সন্দ্বীপের এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে পৌর নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষকে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ তোলেন।

এছাড়া তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন।আবদুল কাদের মির্জা নিজ ভাবির (আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী) কথা উল্লেখ করেও উষ্মা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াৎ খান, সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আজম পাশা রুমেলসহ স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। 
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন,অবরোধ চলাকালে বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুল কাদের মির্জা ও তার অনুসারীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য বলেন।
পরে তিনি বাংলাদেশ আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের সঙ্গে আলোচনা করে আবদুল কাদের মির্জার অভিযোগগুলোর বিষয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বিকালে অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত বিব্রতকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। পরে সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা একটানা দীর্ঘক্ষণ নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে যখন উনাকে  নির্বাচনীয় আচরণবিধি নিয়ে কিছু বলবেন কিনা?জানতে চাইলে তিনি রাগ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর তার উপস্থিতিতে তার অনুসারীরা প্রথমে উপজেলা পরিষদের সামনে এবং পরে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন!জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  একরামুল করিম চৌধুরী এমপি বলেন,আব্দুল কাদের মির্জা কী কারণে আমাকে জড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন তা আমি জানা না। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমাদের দলীয় ফোরাম রয়েছে। তাই আমি দলের বাইরে কাউকে নিয়ে কোনো রকম  মন্তব্য করতে চাই না।