বিজিবিতে যুক্ত হলো ইন্টারসেপটোর জলযান

প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ , জুন ৩, ২০২০

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সংযোজিত হয়েছে চারটি অত্যাধুনিক দ্রুত গতিসম্পন্ন ইন্টারসেপটোর জলযান। এটি যুক্ত হওয়ায় নৌপথে বিজিবি আরও শক্তিশালী হলো।

সিলভারক্রাফট ৪০ মডেলের রিইনফোর্সড পলিমারের তৈরি ৪০ ফুট দীর্ঘ ৭৫০ হর্সপাওয়ারের তিন ইঞ্জিনের প্রতিটি জলযান ৩৩ জন সৈন্য ধারণে সক্ষম এবং এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ নটিকাল মাইল বা ১০১ কিলোমিটার। এই জলযানসমূহ যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চলাচলে সক্ষম এবং এতে সংযোজিত আছে স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান সংযুক্তির সুবিধাসহ উন্নত প্রযুক্তির স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন সিস্টেম (RADAR), চতুর্থ প্রজম্মের জিপিএস (GPS), আধুনিক সোনার সিস্টেম (SONAR) এবং আরও অনেক অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। এই জলযান সমূহ নিজস্ব অবস্থান হতে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে শত্রু জলযান এর অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। এই জলযানসমূহে দুইজন মুমুর্ষ রোগী পরিবহনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশের ৪১৮৪ কিলোমিটার স্থল সীমান্তের পাশাপাশি ভারতের সাথে ১৮০ কিলোমিটার এবং মায়ানমারের সাথে ৬৩ কিলোমিটার নৌ সীমান্ত বিজিবি প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও ২০১৯ সাল হতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থলভাগের সার্বিক নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত হয়। বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয় সীমান্তবর্তী নাফ নদী। আন্তঃদেশীয় অপরাধীদের নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন, মানবপাচার, চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদক পাচারে চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি এবং চলমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতির কারণে নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্ত কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সাতক্ষীরার নীলডুমুরের সুন্দরবন অংশের গহীন অরণ্যের বাংলাদেশ-ভারত জলসীমান্ত এলাকায়ও অনুরূপ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। দেশের নৌ সীমান্তে বিশেষ করে মায়ানমার সীমান্তের সেন্টমার্টিন দ্বীপ, নাফ নদী এবং ভারত সীমান্তের নীলডুমুরে ও সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের জলসীমান্তে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার রোধ ও চোরাচালান বন্ধে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত, অধিক সৈন্য বহনে সক্ষম দ্রুতগতির এই জলযান বিজিবি’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।