করোনায় প্রাণহানি ৩ লাখ ৭৪ হাজার ছুঁই ছুঁই

প্রকাশিত: ২:০২ অপরাহ্ণ , জুন ১, ২০২০

একদিন আগে মরণাতাঙ্ক করোনার ভাইরাসের উৎপত্তির পাঁচমাস পূর্ণ হয়েছে। আজ একশ একান্নতম দিনে ভাইরাসটি সংক্রমণ ছড়িয়েছে বিশ্বের ৬২ লাখের বেশি মানুষের দেহে। যাতে পৃথিবী ছাড়তে হয়েছে ৩ লাখ প্রায় ৭৪ হাজার মানুষকে। তবে, বেঁচে ফিরেছেন প্রায় অর্ধেক আক্রান্ত মানুষ। 

ইউরোপ-আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য-দক্ষিণ এশিয়া আর সবশেষ তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ে লাতিন আমেরিকায়। যেখানে ইতিমধ্যে অর্ধলাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উৎপত্তিস্থল চীনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ করোনার লাগাম টেনে ধরতে পারলেও ব্যর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সর্বোচ্চ আক্রান্তের দেশগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে।

ভাল নেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও। যার সবচেয়ে ভুক্তভোগী নরেন্দ্র মোদির ভারত। যেখানে আক্রান্ত ২ লাখের কোটায় ঘুরছে। সংক্রমণ তালিকায় শীর্ষ সাতে জায়গা হয়েছে দেশটির। প্রাণ গেছে সেখানে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষের।

বাদ যায়নি বাংলাদেশও। যেখানে প্রতিদিনই রেকর্ড আক্রান্তে দ্রুস বিস্তার লাভ করছেন ভাইরাসটি। বাড়ছে স্বজন হারাদের সংখ্যা। এমন অবস্থার পরও খুলে দেয়া হয়েছে অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন। তবে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে করে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক বিস্তারের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার শিকার এখন পর্যন্ত ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৯ জন মানুষ। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ লাখ ৯ হাজার ২৪৮ জন। নতুন করে প্রাণ গেছে ৩ হাজার ২০১ জনের। এ নিয়ে করোনারাঘাতে পৃথিবী ছেড়েছেন বিশ্বের ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯৭ জন মানুষ। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৩ জন।

এর মধ্যে বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ জন। আক্রান্ত ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৭০ জনে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিদিনের আক্রান্তের হারে শীর্ষে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা ৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৩১৪ জনের।

আক্রান্তের তালিকায় তিনে থাকা রাশিয়ায় করোনার শিকার ৪ লাখ ৫ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে প্রাণ গেছে ৪ হাজার ৬৯৩ জনের।

নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ প্রায় ৮৬ হাজার ৫০৯। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ২৭ হাজার ১২৭ জনের।

প্রাণহানিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ পৌনে ৩ লাখ ছুঁই ছুঁই। মৃত্যু হয়েছে সেখানে প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার জনের।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ও আংশিক লকডাউনে থাকা ইতালিতে প্রাণহানি ৩৩ হাজার ৪১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। যেখানে আক্রান্ত ২ লাখ ৩৩ হাজার। এছাড়া, আক্রান্ত ও প্রাণহানি কমেছে ইউরোপের দুই রাষ্ট্র জার্মানি ও ফ্রান্সে।

আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ভারতে। সংক্রমণে জার্মানি, ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে শীর্ষ সাতে উঠেছে দেশটি। যেখানে আক্রান্ত ১ লাখ ৯০ হাজার ৬০৯ জন। প্রাণ গেছে ৫ হাজার ৪০৮ জনের।

আর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী গতকাল রোববার পর্যন্ত করোনার শিকার ৪৭ হাজার ১৫৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেঁচে ফিরেছেন ৯ হাজার ৭৮১ জন।