প্রতিবন্ধী হাফিজুলের আর্তনাদ ১টি হুইল চেয়ার

প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ১৯, ২০২০

মোঃ হাফিজুল রহমান জন্ম থেকে শারিরিক প্রতিবন্ধী সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। পড়া লেখার প্রতি তার অদ্যম ইচ্ছা থাকা সত্বেও পরিবারের অভাব অনটনের কারনে আর পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। উপরন্ত শারিরিক প্রতিবন্ধীতার কারনে স্কুলের সহপাটি ও পাড়া প্রতিবেশীরা তাকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করায় তার স্কুলে না যাওয়ার একটি অন্যতম কারন ছিল বলে তিনি জানান। সে উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের কামার গ্রামের ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে।

কৈশর বয়সেই পিতা মারা যাওয়ার অল্প কিছুদিনের পরে মাকেও হারান তিনি। পিতা-মাতাকে হারিয়ে অকেজো দুটি পা নিয়ে অতিকষ্টে প্রায় ৮/৯ কিঃমিঃ দুরে বিভিন্ন হাট বাজারে ভিক্ষা করে নিজের জীবন জিবিকার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে নিজ কুঠিরে থেকে ভিক্ষাবৃতি আর প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা দিয়ে কোন মতে অভাব অনটনের মধ্যে দিনানিপাত করছেন, এবং তার বোনের বাড়ীতে খরচ দিয়ে কোনো রকমে দুবেলা দুমোঠো ভাত মুখে দিচ্ছেন। পাশাপাশি পড়াশুনার প্রতি প্রচন্ড ইচ্ছা থাকা সত্বেও দারিদ্রতা আর শারিরিক প্রতিবন্ধীতার কারনে স্কুলে যাওয়া না হলেও তার লেখাপড়ার প্রতি সেই ইচ্ছাটি আর থেমে থাকেনি।নিজের একক প্রচেষ্টায় সে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের সব বিষয় আয়ত্ব করেছেন।তবে ইংরেজী ও উচ্চতর গণিতে সামান্য সমস্যা থাকলেও তার পা দুটি অকেজো হওয়ার কারনে অন্যের নিকট গিয়ে সমাধান করে নিতে পারেননা।

সরেজমিনে তার বোনের বাড়ীতে গিয়ে দেখায়, ছোট্ট একটি মাটির কুড়ে ঘরের কোণে কাঠের চৌকিতে থাকেন। আর পাশেই টেবিলে রাখা আছে ৯ম/১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের বই সহ অসংখ্য বই। জন্ম থেকেই দু’পা অকেজো হাফিজুরের বয়সের সঙ্গে দেহের বৃদ্ধি হয়নি তেমন। কিন্তু থামেননি তিনি। কখনো হামাগুড়ি দিয়ে আবার কখনো অন্যের ভ্যানে চড়ে চালিয়ে যাচ্ছেন ভিক্ষা বৃত্তি।

তিনি প্রতিবেদকে জানান, সপ্তাহের তিনদিন বিভিন্ন হাটে বাজারে ভিক্ষা করেন।আর বাঁকী চরদিন ঐ মাটির কুড়ে ঘরে বসেই পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকেন। জানালেন, বয়সের কারণে চলা ফেরায় কষ্ট হলেও জীবিকার তাগিদে চলতে হচ্ছে । হাফিজুল জানায়, বেশ কিছুদিন পূর্বে জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ ফারুক হোসেনের নিকট একটি হুইল চেয়ারের জন্য আইডি কার্ডের ফটো দিলেও চেয়ারম্যানের নিকট হতে একটি হুইল চেয়ারের আবেদন করলেও আজও পর্যন্ত একটি হুইল চেয়ার তার ভাগ্যে জোটেনি,ফলে অতিব কষ্টে প্রতিটি দিন সে হাট বাজার ঘুরে ভিক্ষা করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, কোনো সদয় ব্যক্তি তাকে একটি হুইল চেয়ার দান করলে এই কষ্টটি আর করতে হবে না।

এবিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, বরাদ্দ সাপেক্ষে হুইল চেয়ারের চাহিদার আবেদন জেলা অফিসে দেওয়া হয়। সে আবেদন করলে আশা করি পেয়ে যাবেন।