রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে ইসি’র বিশেষ কমিটি

প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্তি ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন’র (ইসি) বিশেষ কমিটি কাজ করছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানান ইসি’র জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম।

তিনি বলেন ‘প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক তথ্যসহ আলাদা রোহিঙ্গা ডাটাবেজ স্থাপন করা হয়েছে। অবৈধভাবে রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অনুসন্ধানে একটি টিম পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধান টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্তের জন্য ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কারিগরি কমিটি এবং একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রতিনিধি রয়েছে। অধিকতর তদন্তের সুবিধার্থে একজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হয়। উভয় কমিটিতে বহিঃসংস্থার সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি রোধ করা কারও একার দায়িত্ব না, সামগ্রিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি নিয়ে বিশেষ কমিটি কাজ করছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইসির কর্মকর্তাদেরও নজরদারি করা হচ্ছে। আর এনআইডি নিতে যেসব দলিল লাগে সেগুলো কীভাবে রোহিঙ্গারা পায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন রোধে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্বৈত ভোটার পাওয়া গেলে প্রাথমিকভাবে বিধি মোতাবেক প্রথমটি রেখে পরবর্তী ভোটার তথ্য ব্লক করে দেয়া হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে ৯২৭ জনের এনআইডি লক করা সহ ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৮ এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ধারা ১৪ ও ১৫ অনুসারে নির্বাচন কমিশন ফৌজদারি মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়াও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ধারা ১৬ ও ১৭ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইতোমধ্যে ২ লাখ ৭ হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সবার বিষয়গুলো আমরা অবজার্ভ করছি। আমরা দেখছি উদ্দেশ্য কী ছিল। তবে আমরা সবার বিরুদ্ধে মামলা করিনি, করবোও না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। তবে কেউ যদি সে বিষয়ে কমিশনে আবেদন করে, সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করে কারণ জানবো, যে কোন উদ্দেশ্যে তারা এটি করেছে। সেটি আমরা কমিশনকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেবো। যারা দ্বৈত হয়েছে আমরা তাদের নোটিফাইড করছি। এসএমএসের মাধ্যমেও তাদের জানিয়ে দিচ্ছি। তবে সবার মোবাইল নম্বর না থাকায় উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে তাদের অবহিত করার ব্যবস্থা করছি।’