ব্রাজিলে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের দিগুণ সুস্থ

প্রকাশিত: ৯:২২ পূর্বাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে করোনা। গত একদিনে দেশটিতে আক্রান্তের  দ্বিগুণ রোগী সুস্থতা লাভ করেছেন। তবে, এদিন বেড়েছে প্রাণহানি। যেখানে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত এ অঞ্চলের পেরু, কলম্বিয়া, চিলি ও আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলোতে। 

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৮৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫৪ জন। এর আগের দিন যেখানে মৃত্যু হয়েছিল ২৮৯ জনের। এতে করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ১১৭ জনে ঠেকেছে।

অপরদিকে সুস্থতা লাভ করেছেন আরও ৩৯ হাজার ২২৬ জন। এতে করে বেঁচে ফেরার সংখ্যা বেড়ে ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ১৮৪ জনে পৌঁছেছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশটির সাও পাওলো শহরে ৬১ বছর বয়সী ইতালি ফেরত এক ব্রাজিলিয়ানের শরীরে ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর থেকেই অবস্থা ক্রমেই সংকটাপন্ন হতে থাকে। যেখানে আক্রান্ত ও প্রাণহানির তালিকায় অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।

তবে শুধু ব্রাজিলই নয়, করোনার ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও। যেখানে পূর্বের তুলনায় ভাইরাসটির প্রকোপ অনেকটা বেড়েছে। এমন অবস্থায় করোনাকে বাগে আনতে দেশগুলোর সরকার মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে অর্থনীতির চাকা সচল থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে সংকটাবস্থার মধ্য দিয়ে ব্রাজিল, পেরু, চিলি, ইকুয়েডর ও আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলোতে অনেক কিছুই চালু রয়েছে।

ব্রাজিলে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে। অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বিতীয় দফায় করোনা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর ব্রাজিল ভাইরাসটির এখন প্রধানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্য পেরু, কলম্বিয়ায়, আর্জেন্টিনা ও  চিলিতেও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ভাইরাসটি।

এর মধ্যে পেরুতে আক্রান্ত ৭ লাখ ৩৪ হাজার ছুঁই ছুঁই। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ হাজার ৮১২ জন।

কলম্বিয়ায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ প্রায় ২২ হাজার মানুষের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৩ হাজার ১২৩ জনের।

আর্জেন্টিনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি। প্রাণ হারিয়েছেন ১১ হাজার ৬৬৭ জন ভুক্তভোগী।

এ ছাড়া চিলিতে হানা দিয়েছে ৪ লাখ সাড়ে ৩৬ হাজারের অধিক মানুষের দেহে। এর মধ্যে ১২ হাজার ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।