যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ৯৫ হাজার, আক্রান্ত ১৬ লাখ ছুঁই ছুঁই

প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ , মে ২১, ২০২০

মহামারি করোনার আঘাতে দিশেহারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবার প্রাণহানিও লাখের কোটায় ঘুরছে। কার্যকরি কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত না হওয়ায় প্রকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রেকর্ড সংক্রমণে আক্রান্তের তালিকা ১৬ লাখ হতে চলেছে। 

বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ হাজার ৪০৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৯৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রাণ গেছে আরও ১ হাজার ৪৬১ জনের। ফলে, এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর দেশটিতে প্রাণহানি ৯৪ হাজার ৯৯৪ জনে ঠেকেছে।

আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার অনেক কম। তারপরও সেখানে বেঁচে ফিরেছেন ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন ১৭ হাজার ৮১৫ জন।

করোনার সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে নিউইয়র্কে। যেখানে প্রাণহানি ২৮ হাজার ৮১৬ জন। আক্রান্ত ৩ লাখ প্রায় ৬৩ হাজার ৫১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এরপরেই রয়েছে নিউ জার্সি। যেখানে ভাইরাসটি হানা দিয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজারেরও বেশি মানুষের দেহে। যাতে প্রাণ গেছে ১০ হাজার ৭৪৭ জনের।

লাখ ছাড়িয়েছে ইলিনয়সে আক্রান্তের সংখ্যা। এর মধ্যে না ফেরার দেশে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ। একই অবস্থা ম্যাসাসুয়েটস অঙ্গরাজ্যের। যেখানে আক্রান্ত ৮৯ হাজারের কাছাকাছি। এর মধ্যে প্রাণ গেছে ৬ হাজারের বেশি জনের।

এদিকে, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিয়ে শিগগিরই বড় ঘোষণা আসছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে, কি সেই ঘোষণা তা অবশ্য বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। খবর রয়টার্সের।

ট্রাম্প বলেন, ‘চিকিৎসাবিদ্যা ও ভ্যাকসিনের বিষয়ে এটা অনেক বড় একটা দিন। বিশাল উন্নতি হয়েছে। এ নিয়ে অনেক বড় ঘোষণা আসছে। আর এই মাত্র জানা গেল, শেয়ারবাজারে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট বেড়ে গেছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট করোনার চিকিৎসায় দেশটির সংস্থা মর্ডানার আইএনসি’র ভ্যাকসিনের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। তাদের তৈরি ভ্যাকসিন শরীরের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে অনেকটাই সফল হয়েছে।

গত মার্চে ৪৫ স্বেচ্ছাসেবকের দেহে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে, এরা কেউই করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। এদের মধ্যে ৮ জনের শরীরে করোনা মোকাবিলা করার মতো প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।

আর, সম্প্রতি করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে বিশ্বব্যাপী ১১৫টি ভ্যাকসিন বা টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছে দ্য কোয়ালিশন ফর প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই)। ইতোমধ্যে মানবদেহে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরীক্ষাও শুরু হয়েছে।

তবে ইউরোপিয়ান মেডিক্যাল এজেন্সির (ইএমএ) বলেছে, সবচেয়ে দ্রুত হলেও এই টিকা অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত হতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগতে পারে।