শিক্ষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ণ , মে ২৯, ২০২০

শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৭৭ সালের ২৯ মে মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্ম তার। 

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং সব পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। তিনি মতিলাল শীল ফ্রি স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে এফএ, প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য তিনি বিভিন্ন বৃত্তি ও পুরস্কার লাভ করেন। সেসবের মধ্যে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি ও জুবিলি গবেষণা পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। সুনীতিকুমার এমএ পাস করার পর ওই বছরই বিদ্যাসাগর কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯১৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন।

১৯১৯ সালে তিনি ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে লন্ডন যান। লন্ডনে তিনি ধ্বনিতত্ত্ব, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ব এবং প্রাকৃত, ফারসি, প্রাচীন আইরিশ, গোথিক ইত্যাদি ভাষা শেখেন। এখান থেকে তিনি প্যারিস যান এবং সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় আর্য ভাষাতত্ত্ব, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ব, গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষা ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করেন। ১৯২২ সালে দেশে ফিরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯৬৩ সালে ভারতের জাতীয় অধ্যাপক হন।

সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তার বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ। এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তার খ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, পশ্চিমের যাত্রী, ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা, সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ, ভারত সংস্কৃতি, সংস্কৃতি কী ইত্যাদি।

ভাষাতত্ত্ব এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তাকে এলাহাবাদ হিন্দু সাহিত্য সম্মেলন ‘সাহিত্য বাচস্পতি’ এবং ভারত সরকার ‘পদ্মবিভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করে।