বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নেই

প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ১৯, ২০২০

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উন্নয়ন পরিকল্পনা আছে, বাস্তবায়ন নাই।

হাওর এলাকার জীবন মান নিয়ে রবিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স  ইউনিট এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে, এতে সভাপতিত্ব করেন হাওর এলাকার কৃতি সন্তান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এ সময় তিনি হাওরবাসীর নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তোলে ধরেন, তিনি বলেন, হাওর এলাকার লোকজন অনেক বৈষম্যের শিকার, ৩৭৩ টি ছোট বড় হাওর আট জেলা নিয়ে ১৯৭৭ সালে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয়, ১৯৮৭ সালে বাতিল করা হয় পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে হাওর এলাকার উন্নয়ন এর লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠন করা হয়। মন্ত্রী এ সময় আরো বলে উক্ত অধিদপ্তর যে মাষ্টার প্ল্যান করেছে তা কাগজে কলমেই আছে বাস্তবায়ন নাই, ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কেবল দলিলে থেকে গেল। হাওরের পরিবেশ অপরিবর্তিত রেখে কৃষি, মৎস্য, প্রাণী, শিক্ষা, স্বাস্হ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্হার দ্রুত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা দরকার, হাওরে মিঠা পানির মাছ এ সময় ডিম দেয় তাই মাছ ধরা নিষেধ করা দরকার, আরো মৎস্য অভয়াশ্রম করা, কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন করা দরকার। হাওর এলাকায় ব্যাপক পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা আছে, থাকা খাওয়া ও নিরাপত্তার সু ব্যবস্হা থাকলে দেশ-বিদেশের পর্যটকের ঢল নামবে, তিনি আরো বলেন নেত্রকোণার গাড়ো পাহাড় ঘেঁষে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করে দিলে তা হবে পর্যটকদের আকর্ষন।

সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ এর পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, নিজেদের গবেষণায় পাওয়া তথ্য ২০১৭ সালে বন্যায় ৮ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছিল, হাওর এলাকায় এক সময় ৭০-৮০ প্রজাতির শীতে ৬০ থেকে ১ লাখ অতিথি পাখি আসতো, এখন ৪৭ প্রজাতির ৩৫ হাজার এর মত পাখি আসে। গবেষণায় আরো বলেন হাওরে ৩০ ভাগ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে, ২৬ শতাংশ মানুষ ৬৫ ভাগ জমির মালিক, ৭৪ ভাগ মানুষ বর্গা চাষী। বর্ষাকালে বেকার হয়ে পরে তাই অনেকেই পেশার পরিবর্তন করে পেলছে, আমিনুল ইসলাম আরো বলেন হাওরে শিক্ষার হার ৩৮ শতাংশ, পয়োনিষ্কাশন হাড় ৪৪ শতাংশ নেত্রকোণায় আরো কম মাত্র ৩৫ শতাংশ, হাওরে আর্সেনিক সমস্যা সমাধান হয়নি, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্হাও ভাল না। আমিনুল ইসলাম পরিসংখ্যান ব্যুরো পভার্টি ম্যাপ জরিপ নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, এ জরিপে বলা হয়েছে হাওরে কোন দারিদ্র লোক নেই, তাই বিশ্বব্যাংক, ওয়াল্ড ফুড ব্যাংক পিছিয়ে পরা এলাকার উন্নয়নের তহবিল যখন দিচ্ছে, তখন হাওর এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে। বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর পরিচালক পরিকল্পনা আছে বরাদ্ধ নেই তাই আশা অনুরূপ উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না।

তাই টেকসই ও দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবী তুলছে হাওর পাড়ের মানুষ।