ভাসমান বীজতলার সুফল পাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১০, ২০২০

কৃষি জমিতে পানি থৈ থৈ মনে হয় যেনো সমুদ্র। সেই সমুদ্রের মাঝে মধ্যে একখন্ড সবুজের হাত ছানি। কাছে গিয়ে দেখা যায় কলার ভেলায় বিশাল সমুদ্রে ভেসে আছে বীজতলা। গাঢ় সবুজের সেই রোপা আমন হেলে দুলে বাতাতে ভেসে বেড়াচ্ছে দিকবেদিক। যখন ভাটার সময়, তখনো ক্ষেতে হাটু পানি। ক্ষেতের আগাছা মাথা উঁকি দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। সেই আগাছা ভেদ করে বীরদর্পে তখনো ভাষমান বীজতলা। এটি অতিবৃস্টি ও বন্যায় ডুববে না।এই ভাসমান বীজতলায় নেই সেচের প্রয়োজন, ছিটাতে হবে না কীটনাশক। দরকার হবেনা সারের প্রয়োজন। এমন বীজতলা এতদিন ছিল কৃষকদের স্বপ্নে। সেই স্বপ্নের বীজতলা বাস্তবেই তৈরী করছেন কৃষকরা।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগীতায় চলতি আমন মৌসুমে রাজাপুর উপজেলার ৬টি স্থানে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সময়মতো রোপা আমনের চাষ করতে পারে এজন্য এসব ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত চারা বিনা মূল্যে চাষীদের দেওয়া হবে।

বীজতলা প্রস্তুতের জন্য প্রথমে একাধিক কলা গাছ একসঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। তার উপর কচুরিপানা বিছিয়ে দিতে হয়। এর উপর ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি পুরু’ কাদামাটি বিছিয়ে দিয়ে এই বীজতলা তৈরি করা হয়। সেখানে ছিটানো হয় বীজ ধান। এভাবে রাজাপুর উপজেলায় প্রায় ২৪টি ভাসমান বীজতলায় ইতিমধ্যে চারা গজিয়েছে। চলতি আমন চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এসব ভাসমান বীজতলায় তৈরি চারা। চলছে পরিচর্যার কাজ । এসব বীজতলায় ব্রি-২৩ জাতের বীজ বপন করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের চারা সঙ্কট মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ডুবে থাকা জমির পাশাপাশি পুকুর ও ডোবায় স্বল্প সময়ে ও কম খরচে এই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করতে পেরে খুশি কৃষকরা।

উপকারভোগী কৃষক রুহুল আমিন খলিফা বলেন, বন্যায় পানিতে আমার বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছি। চারা এখন রোপণের উপযোগী। জমি থেকে পানি নেমে গেলেই ধান লাগানো শুরু করব। আশাকরি আমনে এবার ভালো ধান পাবো।

রাজাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, সরকার এসব বীজতলা তৈরির খরচ বহন করেছে কারন ফসল উৎপাদনে বিলম্ব না হয়। তিনি জানান অতি বৃস্টির কারণে বীজতলার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উপজেলার ৬টি স্থানে ভাসমান বীজতলা তেরি করা হয়েছে যার মধ্যে সাতুরিয়া ইউনিয়নে ১টি, রাজাপুর সদর ইউনিয়নে ২টি, গালুয়া ইউনিয়নে ১টি এবং মঠবাড়িয়া ইউনিয়নে ২টি। সরকার এজন্য ৩২৭৬০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি আগামীতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহবান জানিয়েছে।