গুইমারার শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী শ্যাম প্রসাদ পুলিশের হাতে আটক।

বাহার উদ্দিন বাহার উদ্দিন

রামগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৬, ২০২০

খাগড়াছড়ির গুইমারার আলোচিত শিশু (১৩) ধর্ষণ মামলার আসামি শ্যাম প্রসাদ বণিককে(৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) গভীর রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার (৬আগস্ট) খাগড়াছড়ির ম্যজিস্ট্রেট আদালতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামি শ্যাম প্রসাদ বণিক।
রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ জানান, শ্যাম প্রসাদকে অধিকতর জিজ্ঞাসাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুইমারা থানার এসআই আল-আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বুধবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করার পর সে খাগড়াছড়ির আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোরশেদুল আলমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
জানা গেছে, গুইমারা উপজেলা সদরের ডাক্তার টিলা এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শাহেদার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের সুবাদে একই এলাকার বাসিন্দা জুয়েলারি ব্যবসায়ী দুই সন্তানের বাবা শ্যাম প্রসাদ বণিক অবাধে তাদের বাসায় আসা যাওয়া ছিল। একদিন শাহেদার অনুপস্থিতিতে শ্যাম প্রসাদ তাদের বাসায় গিয়ে ওই প্রবাসীর শিশু কন্যাকে (১৩) একাকী পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শ্যাম প্রসাদ তার নিজের স্মার্ট ফোনের ক্যামেরায় ধর্ষণের ভিডিও ধারণা করে। ধর্ষণের কথা কাউকে বললে ভিডিওটি প্রকাশ করে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখায় শ্যাম প্রসাদ। পরবর্তীতে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে বহু দিন ধর্ষণ করে সে।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর দেশে ফেরার পর শাম প্রসাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রচণ্ড কলহ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানায়, কিছুদিন আগে গুইমারা বাজারে জাহাঙ্গীরের জ্বালানি তেলের দোকানে কারও রেখে যাওয়া একটি মেমোরি কার্ড থেকে তার মেয়েকে শ্যাম প্রসাদের জোরপূর্বক ধর্ষণের ভিডিওটি দেখতে পান। এর প্রেক্ষিতে মেয়ের ধর্ষণের বিচার চেয়ে গত ২৬ জুলাই শ্যাম প্রসাদ বণিকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীর আলম। ২৭ জুলাই তিনি গুইমারা থানায় শ্যাম প্রসাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরই গা ঢাকা দেয় শ্যাম প্রসাদ। পুলিশ তাকে ধরতে বিভিন্ন তৎপরতা চালায়। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গুইমারা থানার পুলিশের একটি দল বুধবার (৫ আগস্ট) গভীর রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর কাটিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্যাম প্রসাদ বণিককে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে।
রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ বলেন, ‘শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি অত্যন্ত রোমহষর্ক ও জঘন্য। ধর্ষকের নিজের ধারণ করা ভিডিওটিও জব্দ করা হয়েছে। আসামি শ্যাম প্রসাদ আদালতের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তবু এ জঘন্য অপরাধের সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা বের করতে আসামির রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।’