চাটমােহরে বিলুপ্তির পথে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ‘গোলাঘর’

প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৬, ২০২০

‘গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ’ এটি একটি প্রবাদবাক্য। এখন পুকুর ভরা মাছ থাকলেও নেই কেবল গোলাভরা ধান। কারণ মানুষ আর এখন গোলাঘরে ধান রাখছে না। কালের বিবর্তনে প্রায়ই বিলুপ্তির পথে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য কৃষকদের ধান রাখার সেই ‘গোলাঘর’। আগের দিনে আমাদের দেশের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ক্ষেতের ধান গোলাঘরে মজুদ করে রাখতেন। বসত বাড়ির আঙ্গিনায় মাটি, বাঁশ আর টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হতো ধান মজুদ রাখার এ ঘর। ধানের গোলা বসানো হতো বেশ উঁচুতে। যেন তাতে বর্ষার পানি প্রবেশ না করে। গোলায় প্রবেশের জন্য রাখা হতো একটি দরজা। দরজায় বাইরে থেকে তালা মেরে রাখা হতো চোরের হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য। এটি দেখতে অনেকটা পিরামিডের মতো। জানা গেছে, একটি গোলাঘর তৈরি করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ লাগত। আগের দিনে গোলাঘর দেখে অনুমান করা যেত এলাকায় কে কত বড় জোতদার। প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুম আরম্ভ হলে কিষানিরা গোলাঘর লেপে (মাটির আস্তর) প্রস্তুত করে রাখত। গোলা ঘরের বদলে মানুষ এখন চট ও প্লাস্টিকের বস্তায় ধান ভরে ঘরে মজুদ রাখছেন। কথা হয় পাবনার চাটমোহর উপজেলার কয়েক’জন কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, আগের দিনে ধান রাখার জন্য গোলাঘর ব্যবহার করা হতো। গোলাঘরে ধান রাখায় ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষা পেত। একটি বড় গোলাঘরে সাধারণত ২/৩শ মণ পর্যন্ত ধান রাখা যেত। উপজেলার কয়েকটি বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এখনো দেখা যায় গোলাঘর। তবে এতে রাখা হয় না ধান। গ্রাম-বাংলার এ ঐতিহ্যটুকু শুধুই স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন তারা।