চামড়া ফেলে দেওয়া হচ্ছে পদ্মা নদীতে

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ , আগস্ট ২, ২০২০

রাজশাহীতে দাম না পেয়ে ছাগলের চামড়া পদ্মার পানিতে। কোরবানির পর প্রকারভেদে প্রতিটি গরুর চামড়া ১০০ থেকে ৪০০ টাকা ও ছাগলের চামড়া ১০/২০ টাকায় কেনা হয়েছে। আর বড় গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় নেওয়া হয়।

ফলে দাম না পেয়ে ছাগলের চামড়া পদ্মায় ফেলছেন ব্যবসায়ীরা। গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমিয়ে নির্ধারণ করেছিলো সরকার। সেই দামও পাওয়া যায়নি চামড়া বিক্রির সময়।

যদিও বরাবরের মতো এবারও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বেশি দামেই চামড়া কিনেছিলেন। ফলে তারা ধরাও খেয়েছেন। আড়তে বিক্রি করতে না পেরে অনেককে এখন সেই চামড়া পদ্মা নদীতেও ফেলে দিতে হচ্ছে।

আর প্রকৃত চমড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার তারাই ঠিকমতো বাজার বুঝতে পারেননি। একদিনের জন্য চামড়া কিনতে এসে মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও বোঝেননি। ফলে তাদের ক্ষতি হয়েছে। আর এককালীন পুঁজি হারিয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে।

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত দামও দিতে চাইছিলেন না চামড়া ব্যবসায়ীরা। পশুর চামড়া দেখার পর তারা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করেন। নিম্ম দরের কারণে কারও মধ্যেই কোনো দরকষাকষি ছিল না।

অনেকটা অসহায়ের মতোই পানির দামেই কোরবানির চামড়া বিক্রি করে দিতে হয়েছে সবাইকে। আর শুরু থেকেই চামড়া কেনায় আগ্রহ কম থাকায় একরকম যেচেই চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। মাঝারি আকৃতির গরুর চামড়া ৫০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনতে দেখা গেছে। আর বড় আকৃতির গরুর চামড়া কেনা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায়। সবচেয়ে বড় চামড়াটি বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকায়। এছাড়া ছাগলের চামড়ার দাম দেওয়া হয়েছে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা।

রাজশাহীর সপুরা এলাকার আলিম উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর কোরবানির পর চামড়া কেনার জন্য মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পাড়া-মহল্লায় ঢুকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। ৮০ হাজার টাকা মূল্যের গরুর চামড়া মাত্র ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এছাড়া ছাগলের চামড়ার দাম দেওয়া হয়েছে ৪০ টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে রবিবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর আই-বাঁধ এলাকায় কয়েকজন মৌসুমী ব্যবসায়ীকে প্রায় দেড় হাজার গরু-ছাগলের চামড়া পদ্মায় ফেলে দিতে দেখা গেছে। এসব ব্যবসায়ীরা জানান, তারা রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে চামড়া কিনেছেন। তারপর বিক্রির জন্য তা মহানগরীর রেলগেট এলাকার আড়তে নিয়ে যান। কিন্তু তারা যে দামে কিনেছেন তার তিনভাগের এক ভাগ দামও দিতে চান কেউ। এসব চামড়া তাদের অন্য কোথাও বিক্রি করতে বলা হয়।

কিন্তু তারা খোঁজ নিয়ে দেখেন, কোথাও চামড়ার চাহিদা নেই। তারা যে দামে চামড়া কিনেছেন তার অর্ধেক দামও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই ক্ষোভে এসব চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন তারা।

রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রৌফ বলেন, রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া টাকা পর পর টানা তিন বছর ধরে আটকা পড়েছে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। যে কারণে আগে থেকেই চামড়া কেনার পুঁজি সঙ্কটে ভুগছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আগে ধারণা করা হচ্ছিল টাকা না পেয়ে তারা কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া কিনতে পারবেন না। ঠিক ঈদের দিন তাই ঘটেছে। কালের কন্ঠ